প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, ১৯:৫৩
খাগড়াছড়িতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযান অপারেশন ডেভিল হান্টের আওতায় আরও ৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। খাগড়াছড়ি সদর থেকে ২ জন, পানছড়ি থেকে ১ জন, মাটিরাঙা থেকে ১ জন, মহালছড়ি থেকে ১ জন, লক্ষীছড়ি থেকে ১ জন, মানিকছড়ি থেকে ১ জন এবং গুইমারা থেকে ২ জনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পর সংঘটিত বিভিন্ন সহিংস ঘটনার অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকজনের বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের করা মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে খাগড়াছড়ির বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান জোরদার করে এবং তদন্তের ভিত্তিতে এসব গ্রেফতার সম্পন্ন করা হয়।
এ নিয়ে খাগড়াছড়ি জেলায় অপারেশন ডেভিল হান্ট চলাকালীন মোট গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৩ জনে। পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে অনেকে স্থানীয়ভাবে সংঘটিত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে।
খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো. আরেফিন জুয়েল জানিয়েছেন, গ্রেফতারকৃতদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে নাশকতা, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও সরকারি সম্পত্তির ক্ষতির অভিযোগ রয়েছে। তাদের কাছ থেকে কিছু সন্দেহজনক সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে, যা তদন্তের জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, সাম্প্রতিক সহিংসতায় গ্রেফতারকৃতদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। তারা সংগঠিতভাবে বিভিন্ন স্থানে হামলা, ভাঙচুর ও আতঙ্ক ছড়ানোর কাজে লিপ্ত ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তদন্তের ভিত্তিতে আরও অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযান চলাকালীন এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ একে অপরাধ দমনের কার্যকর পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে, তদন্ত শেষে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার হবে না।
খাগড়াছড়িতে চলমান এই অভিযানের ফলে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে দাবি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তবে এলাকাবাসীর মধ্যে এখনো আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে টহল জোরদার করা হয়েছে এবং আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
অপারেশন ডেভিল হান্টের পরবর্তী ধাপে আরও অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সহিংসতা প্রতিরোধ ও শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।