
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৪, ২১:৩৮

১৫ বছর ধরে শ্রীমঙ্গলে সারের ডিলারদের মধ্যে একটি সিন্ডিকেট ব্যবসা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) সারের ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে একই পরিবারে একাধিক ব্যক্তির নামে ডিলারশীপ দেওয়ার ঘটনাটি সামনে এসেছে।
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের শাসনামলে শ্রীমঙ্গলে ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় বিসিআইসির সারের ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা হয়েছে। একই পরিবারের সদস্যরা একাধিক ডিলারশীপ নিয়ে সারের বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ৩ নম্বর শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের ডিলার অনুকুল চন্দ্র দাশের ভাই পরিমল দাশ ৯ নম্বর সাতগাঁও ইউনিয়নের ডিলার। এছাড়া, ৬ নম্বর আশীদ্রোন ইউনিয়নের ডিলার স্বপন কপালী ও ৮ নম্বর কালিঘাট ইউনিয়নের ডিলার শান্ত কপালীও আত্মীয়। ফলে, সারের বাজারে প্রতিযোগিতা হ্রাস পেয়ে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

খুচরা বিক্রেতারা অভিযোগ করেছেন, তারা প্রয়োজনের সময় সারের অভাবে ভুগছেন। কখনো কখনো তাদেরকে উচ্চ মূল্যে সার কিনতে বাধ্য হতে হচ্ছে। কৃষকরা জানান, মৌসুমে কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টি করে ডিলাররা তাদেরকে সার সরবরাহ করছেন না, ফলে অন্য এলাকা থেকে উচ্চ মূল্যে সার ক্রয় করতে হচ্ছে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

শ্রীমঙ্গল উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের মতে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবু তালেব বলেছেন, কোনো অনিয়মের প্রমাণ মিললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমন পরিস্থিতিতে কৃষক ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে। তাদের দাবি, সারের স্বচ্ছ বিতরণ নিশ্চিত করতে এবং সিন্ডিকেট ভেঙে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যকর করতে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।