
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৪, ১৫:৪৯

কুমিল্লার দেবীদ্বারে অপারেশন থিয়েটারে প্রসূতি নারীকে সিজারের সময় অ্যানেস্থেসিওলজিষ্টের অনুপস্থিতিতে অ্যানেস্থেসিয়া দিল এবিষয়ে অনভিজ্ঞ গাইনী চিকিৎসক নীলা পারভিন নিজেই। এই ঘটনা নিয়ে হাসপাতালে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে রবিবার (১০মার্চ) বিকেল ৫ টা ২০ মিনিটে উপজেলা সদরের দেবীদ্বার টাওয়ার হাসপাতালে। এঘটনায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকেল সাড়ে ৫টায় ওই হাসপাতালে গিয়ে হাজির হন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান বিজয় ও গনমাধ্যম কর্মীরা। এসময় প্রসূতি ওই নারী আলিফা আক্তার(১৯)'কে জিজ্ঞাস করলে তিনি জানান, তাকে যিনি সিজারিয়ান অপারেশন করিয়েছেন তিনিই ডা. নীলা পারভীন তাকে পিছন দিক দিয়ে অ্যানেস্থেসিয়া দিয়েছেন। এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাকিল আহমেদ, অফিস সহকারী মোঃ রফিকুল ইসলাম। দেবীদ্বার টাওয়ার হাসপাতালের পরিচালনা কমিটির সদস্য আবুল খায়ের, অভিযুক্ত ডা.নীলা পারভীনসহ আরো অনেকে।
জানা গেছে, আলিফা আক্তার(১৯), স্বামী- বোরহান উদ্দিন, রানীগাছ, বি-পাড়া, কুমিল্লা'কে বিকেলে হাসপাতালে নিয়ে আসেন শ্বশুর আব্দুল কাদির। পরে তার সিজারিয়ান অপারেশন সম্পন্ন হয়, এবং এক নবজাতকের জন্ম হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক চিকিৎসক জানান, এর আগে দেবীদ্বার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চাকুরীকালীন সময়ে নানান ঘটনার কারনে ডা. নীলা পারভীনকে ব্রাহ্মণপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বদলি করা হয়েছে। সেখানে তিনি নিয়মিত অফিস না করে অধিক অর্থের লোভে দেবীদ্বারে নিয়মবহির্ভূত সিজারিয়ান অপারেশন ও চিকিৎসা প্রধান করছেন, যা অনেকেই অবগত আছেন।
এবিষয়ে দেবীদ্বার টাওয়ার হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিওলজিষ্ট ডা. সাহিদ হাসান সৌরভ বলেন, আমি বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার মধ্যে চারটি ওটি করে বের হয়েছি। পরে আর কোন অপারেশন হয়েছে কি না তা বলতে পারব না।

তবে অভিযুক্ত ডা. নীলা পারভীন বলছেন, এই রুগি সিজারের অ্যানেস্থেসিয়া ডা. সৌরভ দিয়েছেন। আমি রুগির পিছন দিকে থাকায় হয়তো রুগী ভাবছে আমি অ্যানেস্থেসিয়া দিয়েছি।
এবিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আলী এহসান বিজয় বলেন, ভুল অ্যানেস্থেসিয়ার কারনে একটা মানুষের জীবন বিপন্ন হতে পারে। দেবীদ্বার টাওয়ার হাসপাতালে এক সিজারিয়ান অপারেশনে অ্যানেস্থেসিওলজিষ্টের অনুপস্থিতিতে ডা. নীলা পারভীন নিজেই অ্যানেস্থেসিয়া দিয়েছেন এমন একটি খবরে হাসপাতালে গিয়ে রুগির সাথে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে, যা নিয়ম বহির্ভূত। এবিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।