প্রকাশ: ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ২:৩৮
ঝালকাঠিতে দু'পায়ে ক্রাচে ভর করে চলা এক নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে নিহত নারীর বড় ছেলে ও দুই পুত্রবধূকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার বিকেলে ঝালকাঠি পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রামনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
৭৫ বছর বয়সী হাসিনা বেগমকে এক ছেলে ও দুই পুত্রবধূ মিলে হত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্বামী হারানো তিন সন্তানের জননী হাসিনা থাকতেন রামনগর গ্রামের বটতলা এলাকায়। তিনি একই এলাকার মৃত আনোয়ার তালুকদারের স্ত্রী।
এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহ আটক তিনজন হলেন, নিহত হাসিনা বেগমের বড় ছেলে শাহ আলম (৫০) ও তাঁর স্ত্রী খাদিজা বেগম (৪০), প্রবাসী ছোট ছেলে সুমনের স্ত্রী ময়না বেগম (৩০)। বিষয়টি নিশ্চিত করছেন ঝালকাঠি সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম।
পুলিশ জানান, বুধবার সকালে বৃদ্ধা হাসিনার সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বেশ কথা কাটাকাটি হয় বড় ছেলে শাহ আলমের। তারপর শাহ আলম ঘর থেকে বের হন। পরে শাহ আলমের স্ত্রী এবং ভাই প্রবাসী সুমনের স্ত্রীকে এক সঙ্গে টিসিবির পণ্য কিনতে বাজারে চলে যান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বড় ছেলে শাহ আলম তার মায়ের সাথে ঝগড়া করে তার মায়ের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করেছেন। বৃদ্ধা হাসিনা বেগম দু পায়ে ক্রাচ দিয়ে ভর করে চলাফেরা করতেন। তিনি কীভাবে গলায় ফাঁস দেবেন? তবে হাসিনার ছেলে শাহ আলম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ঝগড়ার পর আমার মা নিজেই নিজের মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে পরবর্তীতে নিজেই গলায় ফাঁস দিয়েছে।
নিহত হাসিনার ভাতিজা ওমর ফারুক বলেন, হাসিনা বেগমের তিন ছেলে। মেঝ ছেলে সুজন স্ত্রীসহ পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন। ছোট ছেলে সুমন প্রবাসে থাকেন তাঁর স্ত্রী ময়না বেগম বাড়িতে থাকেন। হাসিনা বেগম শারীরিকভাবে অচল ছিলেন তিনি ক্রাচে ভরে করে চলাফেরা করতে হতো। তাঁকে প্রতিনিয়ত বড় ছেলে শাহ আলম এবং দুই পুত্রবধূ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। গতকাল বিকেলের কোনো এক সময় তাঁকে নির্যাতন করে হত্যা করে গাছে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে প্রচার চালানো হয়। যিনি ক্রাচ ছাড়া চলাফেরা করতে পারেননি, তিনি কীভাবে গাছে ঝুলে আত্মহত্যা করবেন, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা করা হবে।
প্রবাসী সুমনের স্ত্রী ময়না বেগম জানান, তিনি এবং তার ননদ দুপুর দুইটার পর ঘরে ফেরেন। তখন তাদের কারো ঘরে শাশুড়ি হাসিনা বেগম ছিলেন না। কিছুক্ষণ পর দুপুর আড়াইটার দিকে প্রতিবেশী কালামের স্ত্রী লিলি বেগম চিৎকার করে সবাইকে ডাক দিতে থাকেন। তখন ঘর থেকে বের হয়ে বাড়ির পাশে ডোবার ধারে গাছের সাথে গলায় ফাঁস অবস্থায় শাশুড়ি হাসিনা বেগমকে দেখতে পান।
নিহতের স্বজন মো. রুবেল জানান, লিলির চিৎকারের পর ডোবার ধারে এসে হাসিনা বেগমের বড় ছেলে শাহ আলম পাশের ঘরের জয় হাওলাদারকে সঙ্গে নিয়ে হাসিনার মরদেহ বাড়ির ভেতর নিয়ে যান।
ঝালকাঠি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ওই নারীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ওসি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, শাহ আলম নিজেই থানায় এসে তাদের জানায় তার মা হাসিনা বেগম আত্মহত্যা করেছেন। এরপর তারা ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে যান এবং বৃহস্পতিবার রাতে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝালকাঠি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করেছেন। এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিস্তারিত তথ্য ময়না তদন্ত রিপোর্টের পর জানা যাবে।
ঝালকাঠি সদর সার্কেলের দায়িত্বরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহিতুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের বড় ছেলে শাহ আলম, দুই পুত্রবধূ খাদিজা বেগম ও ময়না বেগম, প্রতিবেশী বাবু হোসেনকে পুলিশ হেফাজতে এনে রেখেছেন তারা।