
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ১:৩৭

এবার জানুয়ারী থেকেই শুরু করেছে শীত। তার ঝোড়ো দাপটও ধাপে ধাপে বাড়ছে। এই মুহূর্তে উপজেলায় কনকনে বাতাসের সঙ্গে ভীষণ ঠান্ডার কামড় অনুভব হচ্ছে। প্রকৃতির এই আমেজকে পুরোপুরি লুফে নিতে ছাড়ছেন না উপজেলার বাসিন্ধরা। উপজেলার গ্রাম থেকে শহর সর্বত্র মোড়ে মোড়ে চায়ের দোকানে আসর কার্যত জমে গিয়েছে। ঠান্ডার মধ্যে চলছে জমিয়ে চা খাওয়া। চায়েরও আবার রকমফের রয়েছে।
আশাশুনির বুধহাটা বাজারে গাজী মার্কেটে কালামের দুধ চায়ের কদর বাড়ছে । শীতের আমেজ গায়ে মেখে সেই চায়ে চুমুক দিতে অনেকেই রীতিমতো মটরসাইকেল নিয়ে আসছেন।পাশাপাশি উপজেলার গ্রামের চায়ের দোকান তো রয়েছে অজস্র। তবে সেগুলির মধ্যেই নিজগুণে সুনাম অর্জন করেছে বেশ কিছু দোকান।
বিশেষ করে বুধহাটা বাজারের করিম মার্কেট,কুল্যার মোড়, গুনাকরকাটি, আশাশুনি, ব্যাংকদহা, কালিবাড়ী চায়ের নির্দিষ্ট কয়েকটি দোকানগুলিতে সব সময়ই ভিড় লেগেই থাকে। বেশকিছু দোকানে স্পেশাল চা খেতে অনেকে বন্ধু স্বজনদের নিয়ে মটর সাইকেল নিয়ে আসছেন। দীর্ঘক্ষণ ধৈর্য্য ধরে মানুষ রীতিমতো লাইন দিয়ে চা খাচ্ছেন। অন্য চায়ের দাপটে মোটই ভয় পাচ্ছেন না সাধারণ চা বিক্রেতারা
। কোথাও মাটির ভাঁড়, কোথাও বা কাচের গ্লাসে,প্লাষ্টিক কাপে দেওয়া চায়ের দাম খুব একটা বেশি নয়। সেজন্য এর কদর হারানোরও ভয় নেই বলে বিক্রেতারা মনে করেন। দুধ চা ও লাল চা, ক্রেতার পছন্দ মতো বানিয়ে দিচ্ছেন বিক্রেতারা।আশাশুনির বুধহাটা বাজারের ঠাকুর মোড়ে মান্নান নামে এক চা বিক্রেতা বলেন, আমার এখানে চায়ের দাম পাঁচ টাকা করে। লাল চা বিক্রি করি। অনেকে চিনি ছাড়া চা অর্ডার করেন। সব চায়ের ক্ষেত্রেই সমান যত্ন করে দিয়ে থাকি।

মানুষ চা খেতে ভালোবাসে। আরও ভালোবাসেন চায়ের কাপ হাতে গল্প করতে। সকালে সাত টায় দোকান খুলি। দুপুরের পর থেকে রাত্রি ১০টা পর্যন্ত মন দিয়ে দোকান করি।গাজী মার্কেটের চা বিক্রেতা কালাম বলেন, ২০ বছর ধরে এই চায়ের দোকান করছি। উপজেলার অনেকে আমার এখানে চা খেতে আসেন। সকালে দোকান খোলা হয়, একবারে রাত্রিতে বন্ধ করি। আমরা কাঁচের কাপে ও প্লাষ্টিক কাপে চা বিক্রি করি।
আমার দোকানে অনেক ক্রেতা দূরদুরান্ত থেকে চায়ের স্বাদ নিতে চলে আসেন এ শীতের মধ্যে।
কুল্যার বাসিন্দা কিনু বলেন, গরমের দিনেও আমরা চা খাই। তবে শীতে চা খাওয়ার মজাটাই আলাদা। যত শীত পড়বে ততই ঠান্ডায় কাঁপতে কাঁপতে চায়ের কাপে চায়ের চুমুক জমে ওঠে। চা খাওয়ার মুহূর্তের মধ্যেই অলস ভাব কেটে যায়। তাই দিনে কত বার চা খাই তা বলা মুশকিল।