
প্রকাশ: ২৮ জুন ২০২৩, ২১:৭

গত ক’দিনে গাজীপুরের ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঘরমুখো লাখ লাখ মানুষ অনেকটা স্বস্তি নিয়ে ফিরলেও ঈদের আগের দিন বুধবার ভোর থেকেই গাড়ির অপেক্ষায় থাকা কিছু মানুষ বৃষ্টির ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। গাড়িতে চড়তে কেউ ছাতা নিয়ে কেউ পলিথিন মাথায় দিয়ে বৃষ্টি থেকে রেহাই পেতে রাস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছেন। বৃষ্টি উপেক্ষা করে গন্তব্যে যাওয়ার চেষ্টা করছেন গন্তব্যে। কিন্তু গাড়ি সংকটে পড়ে তারা অধিক ভাড়ায় বিকল্পযানেও রওনা হচ্ছেন।
ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে মঙ্গলবার বিকেল থেকেই যানজটের সৃষ্টি হয়। রাতভর থেমে থেমে চলেছে যানবাহন। বুধবার সকাল থেকে গাজীপুর অংশে যানজট না থাকলেও মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ রয়েছে।
বুধবার সকাল ৯টায় উত্তরবঙ্গের প্রবেশপথ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরমুখো মানুষের ভিড়। তবে সকাল থেকে বৃষ্টি থাকায় বিপাকে পড়েছেন হাজারও যাত্রী। তারা বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। কেউ ছাতা নিয়ে, কেউ মাথায় পলিথিন পেঁচিয়ে, কেউবা আবার বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে রওনা হয়েছেন। তবে বেশি বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল, পিকআপ, ও গরুর ফিরতি ট্রাকে বাড়ি ফেরা লোকজন। ট্রাকের ওপর ত্রিপল/ পলিথিন টাঙিয়ে রওনা হয়েছেন অনেকেই।
বুধবার ভোরে যানজট প্রবণ ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড়ে ও ঢাকা ময়মনিসিংহ মহাসড়কের চান্দনা-চৌরাস্তা মোড়ে চিরচেনা যানজট না থাকলেও কিছু পরিবহন ও যাত্রীদের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির মধ্যে হাজার হাজার যাত্রী অপেক্ষা করছেন গাড়ির জন্য। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিকের চেয়েও
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
গ্রামের বাড়ি যশোরে যাচ্ছেন গাজীপুরের সফিপুর বাজারের ঝুট ব্যবসায়ি মো. জাহাঙ্গীর আলম। তিনদিন আগেই তিনি যানজটের কথা চিন্তা করে স্ত্রী-সন্তানদের নিরাপদে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়েছেন। কিন্তু বুধবার সকালে বৃষ্টি মাথায় নিয়ে গ্রামের বাড়ি রওনা হয়ে তিনি পড়েছেন গাড়ি সংকটে। প্রায় দুই ঘন্টা ধরে অপেক্ষা করেও কোন বাসে তিনি ্ডঠতে পারেননি। শেষে চন্দ্রা ত্রিমোড় থেকে গরু পরিবহনে ব্যবহৃত খালি ট্রাকে দেড় হাজার টাকা ভাড়ায় ঊঠেন। গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় বসবাসকারী পোশাক শ্রমিক আবুল বাসার যাবেন রাজশাহী। চন্দ্রায় গাড়ির অপেক্ষায় থাকা বাসার বলেন, মঙ্গলবার কারখানা ছুটি হয়েছে। যানজটের কারণে সেদিন বের হইনি। ভেবেছিলাম বুধবার বৈারে বের হবো কিন্তু ভোরে বৃষ্টির কারণে বের হওয়া যায়নি। বৃষ্টি না থামায় শেষে পলিথিন ও ছাতা মাথায় দিয়ে বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে গ্রামের উদ্দেশ্যে বের হয়ে পড়ি। চন্দ্রায় তিন ঘন্টা ধরে বাসের অপেক্ষা করছি কিন্তু বাস উঠতে পারছি না। রাস্তা অনেকটা ফাঁকা। বাস যেগুলো আসছে সিট খালি নেই।

গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া এলাকায় বসবাসকারী আব্দুল মতিন-দম্পতি গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকায় যাওয়ার জন্য চান্দনা-চৌরাস্তা এলাকায় বাসের অপেক্ষা করছিলেন। বাসে উঠতে না পেরে শেষে আড়াই হাজার টাকা ভাড়ায় সিএনজি চালিত অটোরিকশায় চড়ে গন্তুব্যে রওনা হয়েছেন। তার মতো অনেকেই বিকল্প যান পিক-আপ, ট্রাক কিংবা কভার্ডভ্যানে গ্রামের বাড়ি রওনা হন।
গাজীপুর মহানগরের ভোগড়া বাইপাস এলাকায় বৃষ্টি মাথায় নিয়ে কিছু যাত্রী ট্রাক-পিক আপে উঠে গন্তব্যে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। ট্রাক যাত্রী রংপুরের যাত্রী আনোয়ার হোসেন জানান, পলিথিন মাথায় দিয়েও ৮শ টাকায় ভাড়ায় রংপুর রওনা হচ্ছি। দেখার কেউ নেই।
চন্দ্রায় দায়িত্বপালনরত রোভার স্কাউট সদস্য আশিক মাহমুদ জানান, বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টি উপক্ষো করেই বেশকিছু মানুষ গ্রামের বাড়ি ফেরার জন্য গাড়ির অপেক্ষা করছেন। তবে রাস্তায় কোন যানজট নেই, রাস্তা অনেকটাই ফাঁকা।
গাজীপুর মহানগর পুলিশের ট্রাফিক ভিাগের উপ-কমিশনার মো. আলমগীর হোসেন বলেন, গত বছরের চেয়েও এবার ঘরমুখো মানুষ স্বস্তিতে গন্তবে যাচ্ছেন। দুইদিন একটু চাপ বেশি থাকলেও বুধবার ঢাকা-ময়মনসিংহ মহানড়কের যানজট প্রবণ চান্দনা-চৌরাস্তা মোড়, ভোগড়া বাইপাস মোড়, টঙ্গীর স্টেশন রোড় এলাকায় ছিল বছরের অন্যসময়ের চেয়ে স্বাভাবিক অবস্থা। তবে বৃষ্টির কারণে বুধবার যারা রওনা হয়েছেন তারা বৃষ্টিতে ভিজে গাড়িতে উঠতে কিছুটা ভোগান্তিতে পড়লেও রাস্তায় কোন যানজটে পড়তে হয়নি। এবার যানজট না হওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেন, পুরো রাস্তা গুগল অ্যাপসে, সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন ব্যবহার করে নজরদারিতে রেখে তড়িৎ ব্যবস্থা নেয়া, যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং ও গাড়ি জমতে না দেয়া, কয়েকটি ফ্লাইওয়ে ব্যবহার ও রাস্তা প্রশস্ত করে দেয়ায় এবার ঈদে গাড়ির চাপ থাকলেও যানজটে পড়তে হয়নি।
নাওজোর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুল ইসলাম বলেন, এই বৃষ্টির মধ্যেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মঙ্গলবার চন্দ্রায় যে যানজট ছিল সেটি এখন নেই। তবে সকাল থেকে বৃষ্টির কারণে ঘরমুখো মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন।