
প্রকাশ: ৭ ডিসেম্বর ২০২২, ২২:৪৮

বরিশালে হঠাৎ করেই মসজিদে মসজিদে ডাকাত পড়ার মাইকিং ঘোষণায় আতঙ্কে রাত কাটিয়েছে নগরবাসী। জেলার বাবুগঞ্জ, আগৈলঝাড়া ও নগরবাসীর মাঝে মধ্যরাতে আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের নজরদারী ও টহল কার্যক্রম বাড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি ডাকাত পড়ার বিষয়টি সত্যি না গুজব তা যাচাইয়ে অলিগলিতে বেরিয়ে পড়েন অনেকেই।
এদিকে ডাকাত পড়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লে ২১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহম্মেদ মান্না রাত পৌনে ২ টার দিকে লাইভে এসে গুজবে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য ফেসবুক লাইভ থেকে আহবান জানান। বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও কাউকে আতঙ্কিত না হওয়ার আহবান জানান।
বরিশাল নগরীসহ আশপাশের উপজেলাগুলোতে খবর নিয়ে জানা গেছে, হঠাৎ করেই বুধবার রাত আনুমানিক ১টার দিকে নগরীর ২৯, ৩০ এবং ২৮নং ওয়ার্ড থেকে একের পর এক মসজিদের মাইক দিয়ে ডাকাত দলের হানা দেওয়ার খবরে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রচার চালানো হয়। যা মুহুর্তের মধ্যে গোটা বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে এবং একের পর এক মসজিদে স্থানীয়দের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রচারণা চালানো হয়। মধ্যরাতে বরিশাল নগরীতে ডাকাত আতঙ্কের খবর ছড়িয়ে পড়ার ফেসবুক লাইভে এসে জনসাধারণকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান স্থানীয় মানুষ, জনপ্রতিনিধিসহ ছাত্রলীগের নেতারা।
রাত আড়াইটার দিকে বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের আহ্বায়ক রইজ আহমেদ মান্না বলেন, বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শুনছি গুজব তাই লাইভে চলে এসেছি। আমাদের মনে হচ্ছে ষড়যন্ত্রকারীরা নতুন জাল বিছিয়েছে। সমগ্র বরিশালের অলিতে-গলিতে যতো মসজিদ আছে সেগুলোকে কাজে লাগিয়ে সবজায়গাতে অপপ্রচার করছেন, যে সমস্ত শহরে ডাকাত পড়েছে। বরিশাল শহরে আমরা ৮ লাখ লোক বাস করি, কয়জন ডাকাত আসবে আর কতজন মিলে এই শহরের সবাইকে ডাকাতি করবে। এই ডাকাতির খবরের বিষয়টি সম্পূর্ণ একটি গুজব মনে হচ্ছে, ডাকাতি হওয়ার মতো পরিস্থিতি বরিশালে নেই। আসলে ষড়যন্ত্রকারীরা এই গুজব ছড়িয়ে দেশকে নতুন কোন দিকে ধাবিত করতে চাচ্ছে। এসময় তিনি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি অপপ্রচারকারীদের প্রতিহত করার আহ্বান জানান। আর মসজিদে কারা এ খবর পৌঁছাচ্ছে, প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে হুজুরদের সঙ্গে কথা বলে তাদের ধরতে হবে, আইনের আওতায় আনতে হবে।
এর আগে রাত সোয়া দুইটার দিকে বরিশাল সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শেখ সাঈদ আহমেদ মান্না ৩ মিনিট ২১ সেকেন্ডের অপর এক ফেসবুক লাইভে বলেন, ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সবকটি মসজিদ থেকে মাইকিং হইছে এলাকায় ডাকাত পরেছে। পাশাপাশি ২২, ২৩, ১৪, ১৫, ২০ নম্বর ওয়ার্ডেও মসজিদ থেকে ‘এলাকায় ডাকাত পরেছে সবাইকে সতর্ক থাকার জন্য’ মাইকিং হচ্ছিলো। বিষয়টি শোনার পর সঙ্গে সঙ্গে মেয়র মহোদয়কেও বিষয়টি জানিয়েছি এবং তাৎক্ষণিক মোটরসাইকেল নিয়ে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিয়েছি এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে মসজিদে লোক পাঠিয়েছি, সেখানে তালা দেয়া, হুজুরদের ফোন দিচ্ছি তারা ফোন ধরছে না, তাহলে মাইকিং করলো কারা? এলাকার লোকজন বাইরে বের হয়ে আসছে তবে কোথাও এ ধরনের খবরের সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এদিকে ডাকাত পড়ার মাইকিং ছড়িয়ে পড়ার তাৎক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বরিশাল মেট্রোপলিটন কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রহমান মুকুল সকলকে গুজবে না দিয়ে সতর্ক থাকার আহবান জানান।

বরিশাল মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিমুল করিম বলেন, এখন পর্যন্ত বরিশাল শহরে ডাকাতির বিষয়ে সঠিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অনেকে আতঙ্কিত হয়ে ফেসবুকে পোস্ট করছেন। আমরা শুনেছি কেউ কেউ মসজিদে মাইকিং করেছে। সর্বত্র পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
যদিও এ পরিস্থিতিতে সবাইকে গুজব থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কাউকে ডাকাত সন্দেহ হলে পুলিশকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। সেইসঙ্গে বিষয়টি খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সোহেল মারুফ বলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছেন, মোড়ে মোড়ে পুলিশের গাড়ি টহল দিচ্ছে। মাইকিং সম্পর্কে পুলিশের কাছে পরিষ্কার ম্যাসেজ নেই, তবে মাইকিং হচ্ছে মর্মে তারা জানিয়েছেন। মাইকিং এর বিষয়টি পরিকল্পিত হতে পারে। তাই কাউকে আতংকিত না হতে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিগত কয়েকদিন ধরে বরিশালসহ আশপাশের জেলা উপজেলায় মধ্যরাতে ডাকাত আতঙ্কে বিভিন্ন মসজিদ থেকে মাইকিং এর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া সম্প্রতি আগৈলঝাড়া, উজিরপুর ও বাবুগঞ্জে ডাকাতি ও চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে সংঘবদ্ধ দুস্কৃতিকারীরা।