
প্রকাশ: ১ অক্টোবর ২০২২, ১:৫৬

গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক পলাশ হত্যার বিচার ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তার দাবিতে শনিবার দুপুরে মানববন্ধন কর্মসূচী পালিত হয়েছে। এসময় হত্যা মামলা তুলে নিতে পরিবারের সদস্যদের হুমকি-ধামকিসহ স্বাক্ষীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে প্রভাবিত করার অভিযোগ করা হয়।
জানা যায়, ২০১৫ সালে ২১ এপ্রিল যুবলীগের কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে দ্বন্দের জের ধরে প্রকাশ্য দিবালকে উজানচর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক পলাশকে কুপিয়ে হত্যা করে প্রতিপক্ষ। পলাশ গোয়ালন্দ উপজেলার উচানচর ইউনিয়নের পূর্ব উজানচর জৈনদ্দিন সরদার পাড়া গ্রামের এবি ছিদ্দিকের ছেলে। এ ঘটনায় নিহত পলাশের মা ছকিনা বেগম বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। এরপর মামলা আসামীরা গ্রেপ্তার হলে তারা আদালতে স্বিকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়। বর্তমানে আসামীরা জামিনে থেকে মামলা তুলে নেয়ার জন্য বিপুল অঙ্কের টাকার প্রলোভন দেখানো এবং স্বাক্ষীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।
মামলার বাদি নিহত পলাশের মা ছকিনা বেগম জানান, মামলা তুলে নেয়ার জন্য ১০/১২ লাখ টাকার লোভ দেখানোসহ আমাদের প্রতিনিয়ত ভয়ভীতি দেখিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমার কোন টাকা পয়সা চাই না, আমার ছেলের হত্যাকারিদের ফাঁসি চাই। পলাশের এতিম মেয়েটাকে স্কুলে দিয়ে আমরা সব সময় দুঃচিন্তায় থাকি। আজ ওর বাবা নেই, মাও নেই, দেখন তো ওর মুখের দিকে তাকানো যায় নাকি?’

নিহত পলাশের বাবা এবি ছিদ্দিক জানান, হত্যাকারিদের জন্য আমরা ঠিকমত আদালতেও যেতে পারি না। সব সময় আমাদের ঘিরে ধরে রাখে। এ পরিস্থিতিতে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় আাছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য সমশের শেখ জানান, প্রকাশ্যে দিবালকে পলাশকে কুপিয়ে খুন করা হয়। সাত বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার শেষ হয়নি। আসামীরা বীরদর্পে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়।স্বাক্ষীদের প্রভাবিত করা ছাড়াও অব্যহত ভাবে পরিবারের উপর চাপ সৃষ্টি করে যাচ্ছে। আমরা এলাকাবাসী খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই, যাতে আর কোন মায়ের কোন এভাবে খালি না হয়।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি স্বপন কুমার মজুমদার জানান, পলাশ হত্যা মামলার বদি ও স্বক্ষীদের ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়টি থানা পুলিশকে কেউ অবগত করেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। এছাড়া যদি প্রয়োজন হয় এ মামলার স্বাক্ষীদের পুলিশ পাহাড়ায় আদালতে স্বাক্ষীর ব্যবস্থা করা হবে।