
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২২, ২৩:৩৯

নেছারাবাদ উপজেলার দুর্গাকাঠি গ্রামের পরিমল ও কাজল দম্পত্তি তাদের বিক্রি হওয়া ১৮ দিনের শিশু কন্যাকে কোলে ফিরে পেয়েছেন । নেছারাবাদ থানা পুলিশের প্রচেস্টায় বিক্রির মধ্যস্থতাকারী আরতী রানি সন্ধ্যার মাধ্যমে বৃহসপতিবার রাতে ওই শিশুকে তার বাবা মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়। ১৮ দিনের শিশু কন্যাকে ফিরে পেয়ে মা কাজল রানি অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন। তবে শিশু কন্যাটির মা কাজল দু'চোখে এখন কেবল হতাশা। তাদের নিজেদের কোন জায়গা জমি নেই। তাদের ছেলে মেয়েদের নিয়ে অন্যর একটি পরিত্যক্ত ভাঙ্গা ঘরে থাকতেন।
কাজল বলেন, আগামিকাল রোববার তাদের থাকার পরিত্যক্ত ঘর মালিক বাড়ীতে আসবেন। ঘর ছাড়ার জন্য তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। ছেলে মেয়েদের নিয়ে তারা কোথায় মাথা গুজনেন এখন সেই চিন্তায় ভিবোর তারা। প্রধানমন্ত্রীর কাছে তার দাবি তাদের যেন একটু মাথা গোজার ঠাই করে দেয়া হয়।
তাদের প্রতিবেশি সবিতা মিস্ত্রী(৬৫) বলেন পরিমল দম্পত্তি বিক্রি হওয়া শিশু ফিরে পেয়ে তারা খুবই আনন্দিত। তবে ঘর মালিক রোববার বাড়ীতে এসে ঘরে তালা জুলাবে। তারা এখন কোথায় থাকবে। তাদের ঘরে কোন চাল ডাল কিছুই নেই। আমাদের খাবার থেকে মাজেমধ্য তাদের দিয়ে চালিয়ে রাখি।

জানাগেছে পরিমল বেপারীর অভাবের সুযোগ নিয়ে বিজন হালদার ও তার সহযোগী রনজিত মন্ডল তার ১৮ দিনের শিশু কন্যাকে বিক্রি করতে প্রলুব্ধ করেন। পরিমল বেপারীর অভিযোগ একলাখ ৬৫ হাজার টাকায় তার সন্তান বিক্রি করা হলেও তাকে মাত্র ১০ হাজার টাকা দিয়ে বাকীটা ওই প্রতারকরা আত্মসাত করেন।

গত বৃহসপতিবার সংবাদ মাধ্যমে শিশু বিক্রির খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশ তৎপর হয়ে ওঠেন। এ ঘটনায় ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়েন শিশু বিক্রির মধ্যস্থতারী ও ক্রেতা দম্পত্তির আত্মীয় আতা গ্রামের সুকুমার রায়ের স্ত্রী আরতী রানি ওরফে সন্ধ্যা রায়। ওই রাতেই শিশুটিকে উদ্ধার করে তার বাবা মায়ের হাতে তুলে দেয়া হয়। তবে সন্তান বিক্রির সাথে জড়িত টাকা আত্মসাতকারি বিজন হালদার এবং রনজিৎ মন্ডল গা ঢাকা দিয়েছেন।
এ বিষয় নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) থানার ওসি আবির মোহাম্মদ হোসেন বলেন,উদ্ধার করা শিশুকে তার পরিবারের কাছে দেয়া হয়েছে। শিশু বিক্রির বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।