
প্রকাশ: ২৩ ডিসেম্বর ২০২১, ১৮:২৪

দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ঘন কুয়াশার কারণে নৌ-দূর্ঘটনা এড়াতে বুধবার দিনগত রাত ১২টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ১০ ঘন্টা এরুটে সকল ধরনের ফেরি চলাচল বন্ধ থাকে।
বিআইডব্লিউটিসি ঘাট সূত্রে জানা গেছে , বুধবার সন্ধ্যা থেকে পদ্মা নদী এলাকায় কুয়াশা পড়তে শুরু করে। রাত বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশার ঘনত্ব বৃদ্ধি পেতে থাকে। রাত ১২টার দিকে কুয়াশার ঘনত্ব অত্যাধিক বেড়ে গেলে দৃষ্টিসীমা শূন্যতে নেমে আসে। এতে করে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের মার্কিং বাতি ও বয়া ফেরিচালকদের দৃষ্টিসীমার বাইরে চলে যায়। ফলে দূর্ঘটনা এড়াতে ফেরি সহ সকল ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
এদিকে দীর্ঘ সময় ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় কুরিয়ার সার্ভিসের গাড়ি, পণ্যবাহী ট্রাক, কভার্ডভ্যান, কাঁচামাল বোঝাই যানবাহন ও নৈশকোচসহ ছোটবড় সব মিলিয়ে পারের অপেক্ষায় রয়েছে সহস্রাধিক বিভিন্ন যানবাহন। কনকনে শীতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে পড়া যাত্রী, পরিবহন চালক ও সহকারীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিশেষ করে নারী এবং শিশুদের শীতের মধ্যে মহাসড়কে গাড়ির মধ্যে সারারাত আটকে থেকে বাথরুম ও খাবারের সমস্যা পড়তে হচ্ছে।
সরেজমিনে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে দৌলতদিয়া-খুলনা মহাসড়কের গোয়ালন্দ উপজেলার জমিদার ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় ৮ কিলোমিটার রাস্তায় যানবাহনের দীর্ঘ সিরিয়ালের সৃষ্টি হয়। এতে পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাক্তিগত যানগুলো মহাসড়কে আটকে পড়ে।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি


কুষ্টিয়া থেকে আসা বাসযাত্রী ছেলিনা খানম বলেন, স্বামী ঢাকায় কাজ করেন, আমি গত তিনদিন আগে গ্রামের বাড়ীতে এসেছিলাম। রাতেই ঢাকা যাওয়ার জন্য ছোট্র মেয়েকে নিয়ে রাত সাড়ে ৯ টায় কুষ্টিয়া থেকে বাসযোগে ঘাটে এসে আটকা পড়ি। রাতে কুয়াশার কারণে ফেরি বন্ধ রয়েছে বলে জেনেছি। এখন সকাল সাড়ে ৯টা বাজে ফেরি চালু হয়নাই, ছোট্র বাবুটাকে নিয়ে সারারাত গাড়ির মধ্যে অনেক কষ্ট হয়েছে। রাতে গাড়ি থেকে নামার সাহস পাইনি এখন সকাল হয়েছে বলে কিছু খাবার কিনতে নেমেছি।
যশোর থেকে আসা কাঁচামাল বোঝাই ট্রাক চালক বক্কার খান বলেন, আমাদের আজ কপালে অনেক দুঃখ আছে। কাঁচামালের বাজার ধরতে তো পারবোই না,তাছাড় ঢাকায় কখন পৌছাবো তাও জানিনা।বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ফেরিঘাট শাখার সহকারী ব্যবস্থাপক (বানিজ্য) মো. খোরশেদ আলম বলেন, রাত ১২টার দিকে নদীতে হঠাৎ কুয়াশার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় দূর্ঘটনা এড়াতে ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সকাল ১০ টার দিকে কুয়াশার ঘনত্ব কমতে থাকায় ধীরে ধীরে ফেরি চলাচল শুরু হয়। এ নৌরুটে বর্তমানে যানবাহন পারাপারের জন্য ১৬টি ফেরি চলাচল করছে।