
প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০২১, ১৭:৩৮

পারিবারিক অসচ্ছলতা এবং দারিদ্রতার কাছে হার মেনে চিকিৎসার অভাবে পরিবারের সদস্যদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও টানা দীর্ঘ ১৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে পায়ে শেকল বন্দি হয়ে দিন পাড় করছে সাইদুল নামের এই মানুষটি। বরিশালের হিজলা উপজেলার গুয়াবাড়িয়া ইউনিয়নের কালিকাপুর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের মৃত- কাশেম আলী মৃধার সন্তান সে। তারা তিন ভাই ও এক বোন। ভাইদের মধ্যে সাইদুল দ্বিতীয়।
সাইদুলের মা এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, একটা সময় সাইদুল স্বাভাবিকই ছিলো। একটু লেখাপড়াও করেছে সে। সংসারের অভাবের কারণে লেখাপড়া বাদ দিয়ে কাজে লেগে যায়। সংসারের অভাব দূর করার জন্য রোজগারের পথ খুজে নেয়। একদিন হঠাৎ তার মানসিক সমস্যা দেখা দেয়, ধীরে ধীরে মানসিক সমস্যা জটিল হয়ে যায়। তারপর পরিবারের সাধ্যানুসারে চিকিৎসা করিয়ে একটা সময় অর্থ জোগাতে ব্যর্থ হয়।

সাইদুলের শেকলবন্দি জীবনের শেষ চিকিৎসকের কাছে নেয়া হয়েছিলো দশ বছর আগে। দীর্ঘ বছর যাবৎ বোন এবং মায়ের কাছেই শেকলবন্দি জীবন সাইদুলের। অন্য দু ভাই যে যার আলাদা সংসার নিয়ে বসবাস করে। একজন রাজমিস্ত্রির সাহায্যকারী অন্য জন ভ্যান চালক। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আরো জানা যায়, সরকারিভাবে তার নামে একটি ভাতা কার্ড রয়েছে। তা দিয়ে তো আর চিকিৎসা চলে না। মায়ের দাবি, ভালো চিকিৎসা পেলে হয়তো তার ছেলেকে আর শেকলবন্দি জীবন কাটাতে হবে না। তাই প্রয়োজন সরকারিভাবে চিকিৎসার সহযোগিতা।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি