
প্রকাশ: ১৭ ডিসেম্বর ২০২১, ৫:৯

নওগাঁ শহরের কাঁঠালতলী এলাকায় স¤্রাট ফার্নিচার নামে একটি কারখানা ও গুদামে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ করেছে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট। প্রায় দেড় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে আসে। শুক্রবার দুপুরে দিকে নওগাঁ-বগুড়া আঞ্চলিক সড়কের কাঁঠালতলী মোড় এলাকায় এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। বৈদ্যতিক শকসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিস। এতে ফার্নিচার মালিকের প্রায় ২০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ফার্নিচারটি বন্ধ করে চলে যান দোকান মালিক। শুক্রবার দোকানটি বন্ধছিল। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে ওই ফার্নিচার দোকান থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখে স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসে সংবাদ দেয়। আগুন নিয়ন্ত্রনে নওগাঁ ও রানীনগর ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট প্রায় দেড় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। ঘটনার পর কয়েকটি এলাকা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। ফার্নিচার টিতে কাঠের জিনিসপত্র, স্টিলের ফার্নিচার, হার্ডওয়ারের মালামাল ও ফ্লাইবোর্ডের দরজা সহ বিভিন্ন ফার্নিচার সরঞ্জামাদি মজুদ ছিল। তবে হতাহতের কোনও খবর পাওয়া যায়নি। এদিকে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শহরে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ ছিল।
কারখানার মালিক বাদশা হোসেন এর শ্যালক রিপন হোসেন বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে দোকান বন্ধ করে সবাই বাড়ি যায়। শুক্রবার ছুটির দিন হওয়ায় দোকান বন্ধ ছিল। দুপুরে দোকান থেকে আগুনের ধোঁয়া উঠতে দেখে স্থানীয়রা সংবাদ দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিস এসে আগুন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। দোকানে কাঠের ফার্নিচার ও প্লাস্টিক সামগ্রি থাকায় মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কারখানায় আমিও দুলাভাইকে কাজে সহায়তা করে থাকি। সব মিলে প্রায় ২০লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। এঘটনার পর দুলাভাই অসুস্থ হয়ে পড়লে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
নওগাঁ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শফিকুল ইসলাম বলেন, আগুন লাগার সংবাদ পেয়েই ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রনে কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস। তবে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় রানীনগর থেকে আরো দুইটি ইউনিট অংশ নেয়। মোট পাঁচটি ইউনিট কাজ করে দেড় ঘন্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসে। কিন্তু তারপরও একটি ইউনিট রাখা হয়েছে। তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারন করা সম্ভব হয়নি। তবে তদন্ত সাপেক্ষে বলা সম্ভব হবে। বৈদ্যতিক গোলযোগ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করছেন ফায়ার সার্ভিস।তদন্তের পর জানা যাবে ক্ষয়ক্ষতির সংখ্যা। তবে কারখানা মালিকের স্বজনদের বলছেন ২০লক্ষ টাকার মালামাল ছিল।
এদিকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিষ্টার নিজাম উদ্দিন জলিল জন, জেলা প্রশাসক মো: হারুন অর রশীদ, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) মির্জা ইমাম উদ্দিন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার একেএম মামুন খান চিশতীসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা।