
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬:৩৯

হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে কালনী নদীর তলদেশ থেকে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে জড়িত ৪ ব্যাক্তির প্রত্যেককে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা অনুমানিক সাড়ে ৫ টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা সালেহা সুমী এবং সহকারী কমিশনার (ভুমি) অতিরিক্ত দ্বায়িত্ব, উত্তম কুমার দাশ কালনী নদীতে যৌথ অভিযান পরিচালনা করে জড়িতদের আটক করেন। পর ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে উক্ত দন্ডাদেশ প্রদান করেন। আটককৃতরা হল, বরগুনার বাসিন্দা মৃত কাঞ্চন পরেশের পুত্র রাজা মিয়া ওরফে বাদল (৪৮), একই এলাকার মাউরা গ্রামের জামাল মিয়ার পুত্র আলমগীর মিয়া (২৮), কিশোরগঞ্জের মিটামইনের নবাবপুর গ্রামের নাসির উদ্দীন মিয়ার পুত্র শাহিন মিয়া(৩০),ও খুর্শি গ্রামের সাইদুর মিয়ার পুত্র বোরহান মিয়া (২০)।
জানাযায়,
কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার মৃগা ইউনিয়নের বড়বাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মোঃ টুক্কু মিয়ার পুত্র ও মৃগা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ভুট্টো মিয়ার নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ কুচক্রীমহল বিগত প্রায় ৬ মাস ধরে প্রশাসনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে কুশিয়ারার কালনী নদীর তলদেশ থেকে অবৈধ ভাবে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে আসছিল।
উত্তোলনকৃত বালু আজমিরীগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ সহ বিভিন্ন স্হানে নিজ সিন্ডিকেটের অধীন লোকজনের মাধ্যমে প্রতি ঘনফুট বালু ৮ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি করে আসছিল। এদিকে কালনী নদী থেকে প্রতি ঘনফুট বালু উত্তোলন করতে প্রতি বোলগেট ( ইঞ্জিন চালিত স্টিলবডি বড় ট্রলার) থেকে ভুট্টো মিয়া নিজেই ৮০ পয়সা থেকে ১ টাকা ২০ পয়সা করে চাঁদা আদায় করে আসছে। বিগত ছয় মাসেই শুধু প্রায় দেড় কোটির ও বেশী টাকা চাঁদা আদায় করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়। যদিও ১৯৮৩ ইং সনের ডিমারগেশন চুক্তি অনুযায়ী কুশিয়ারার কালনী নদী শাসনের দায়িত্ব জেলা প্রশাসন হবিগঞ্জের।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি

এরই প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুলতানা সালেহা সুমী অতিরিক্ত দ্বায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভুমি) উত্তম কুমার দাশের নেতৃত্বে গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কালনী নদীতে উক্ত অভিযান পরিচালনা করা হয়। একই সময় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে আটককৃত ৪ জনের প্রত্যেককে ১ মাস করে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা কালে থানার উপ-সহকারী পরিদর্শক মহসিন কবিরের নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম সার্বিক সহযোগীতা প্রদান করেন। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা সালেহা সুমী বলেন, চলমান নদী থেকে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।