
প্রকাশ: ৫ আগস্ট ২০২১, ১৭:৪৬

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ'কে অনেকেই পদ্মার ইলিশের জন্য চিনে থাকে। প্রতি বছর দৌলতদিয়ার পদ্মায় শ্রাবন মাসের এই সময়ে ইলিশে পরিপূন্য থাকার কথা থাকলেও এবার ঘটেছে ব্যতিক্রম ঘটনা। এবার পদ্মায় মিলছে না ইলিশ। জেলে ও ব্যবসায়ীদের কাছে নেই তেমন ইলিশ মাছ। অথচ শ্রাবণ মাসের বৃষ্টিতে ইলিশে সয়লাব থাকার কথা জেলে ও ব্যবসায়ীদের কাছে। তবে এবার কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়ছে না দৌলতদিয়ার পদ্মায়।
জেলেরা জানান, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ পদ্মায় জাল ফেলে পাওয়া গেলেও এবার ইলিশের আকাল পড়েছে। জাল ফেলেও মিলছে না ইলিশ মাছ। বুধবার (৫ আগষ্ট) সকালে ৫ নম্বর ফেরিঘাটে গিয়ে জেলে ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
দৌলতদিয়ার পদ্মার জেলে নিমাই হালদার বলেন, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে মোটামুটি ভালো ইলিশ পেলেও এ বছর বর্ষা মৌসুমে সে পরিমাণ ইলিশ মাছ পাচ্ছি না , গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার অনেকটাই কমে গেছে। এক দিকে করোনার কারনে লকডাউন অন্য দিকে নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা না পাওয়া, এই রকম হলে এই লকডাউনে আমাদের মতো গরিব জেলেদের বাঁচাটাই মুশকিল হয়ে পড়েছে।
জেলে মো. ইসহাক মন্ডল বলেন, আমাদের পেশাই মাছ ধরা , মাছ বিক্রি করে আমাদের সংসার চলে, এবার ভড়া মৌসুমে ইলিশের আকাল সাথে অন্যান্য মাছ তেমন একটা নদীতে পাওয়া যাচ্ছে না। নদীতে মাছ না পাওয়ায় আমাদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।দৌলতদিয়া'র মাৎস্য ব্যবসায়ী মো. চান্দু মোল্লা বলেন, প্রতি বছর ভড়া মৌসুমে আমাদের এই খানে অনেক ইলিশ পাওয়া গেলেও এই মৌসুমে পদ্মায় ইলিশ তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। যেগুলো পাচ্ছি সেগুলোর দাম অনেক। বর্তমানে একটি ইলিশের বাজার মূল্য ১৫০০ থেকে ১৮০০ টাকা করে যাচ্ছে, এই অতিরিক্ত দামে কেনা মাছ গুলো ১০০ থেকে ১৫০ টাকা লাভে বিক্রি করে দিচ্ছি।

এ বিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল শরীফ বলেন, ইলিশ শিকারের ওপর ৬৫ দিনের নিষেধ ছিল যা এখন বলবত নেই যেহেতু এখন পানিবৃদ্ধি পাচ্ছে, সে কারণে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ইলিশের দেখা কিছুটা হলেও মিলবে। সমুদ্র থেকে নদীতে মাছ আসতে কিছুটা সময় নেয় তাছাড়া মানব সৃষ্ট প্রতিবন্ধকতা বেড়ে যাওয়া আমাদের গোয়ালন্দের পদ্মায় ইলিশের দেখাটা কমে গেছে।
তবে দেরি করে হলেও পদ্মায় মাছ পাওয়া যাবে। তিনি আরো জানান, মাছের অভয়ারণ্য করার জন্য উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা মৎস্য অফিস ও জেলা প্রশাসন খুব তারাতারি একটি উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে, প্রাথমিক ভাবে ৩টি জল মহল কে বাছাই করা হয়েছে, তারাছাও জেলেদের সচেতনা বৃদ্ধির জন্য উপজেলা মৎস্য অফিস থেকে নানান কাজ করা যাচ্ছে।