
প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২১, ২৩:১৯

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের যমুনা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনার একদিন পর ভেসে উঠলো যুবক মোতালেব সরকার (২৬) এর লাশ। বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) দুপুরে উপজেলার সার পলশিয়া এলাকায় যমুনা নদীর অংশে তার লাশ ভেসে ওঠে। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।
জানা যায়, বুধবার (২৮ জুলাই) সকালে ১২ জন বন্ধু শখ করে ছোট ডিঙি নৌকাযোগে নদীতে মাছ ধরতে যাচ্ছিলেন। ওই সময় নৌকার ইঞ্জিন চালু করার পরপরই বঙ্গবন্ধু রেল সেতুর কাজে ব্যবহৃত বড় জাহাজের বোর্ডের সাথে ধাক্কা লাগলে নৌকাটি ডুবে যায়।
এ সময় ১২ জনের মধ্যে ১১ জন জাহাজে থাকা ট্রায়ার ধরে বোর্ডে উঠেন। নিখোঁজ যুবকের সাথে থাকা ফোনটি নৌকায় পড়ে গেলে তা উদ্ধার করতে গিয়ে নদীতে ডুবে যায়।
এঘটনার পরপরই ৯৯৯ এ ফোন করলে সাথে সাথে টাঙ্গাইল ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল সারাদিন নদীতে খোঁজাখুঁজি করে তাকে উদ্ধার করতে পারেনি।
পরে আজ দুপুরে তার লাশ নদীতে ভেসে উঠলে স্থানীয়রা পুলিশকে খরব দিলে পুলিশ এসে তার লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় জীবিত ফিরে আসা নাজিমুদ্দিন বলেন, নৌকায় কাছি তুলে মেশিন চালু করেছি সবেমাত্র। তখনই হঠাৎ করে নদীতে পানি গোলচক্রের সৃষ্টি হলে মেশিনে অস্বাভাবিক শব্দ হয়ে বন্ধ হয়ে যায়।

এরপর নৌকাটি জাহাজের বোর্ডের ধাক্কা লেগে ডুবে যায় মুহূর্তেই। আমরা ১১ জন দ্রুত জাহাজের বোর্ডে উঠলেও মোতালেব না উঠে মোবাইল উদ্ধার করতে গিয়ে নিখোঁজ হয়।
প্রতিবেশি রাশেদ জানান,মোতালেব খুব ভালো মানুষ ছিলো।মাত্র ১২ দিনের একটি মেয়ে রেখে না ফেরার দেশে চলে গেল সে। এরকম মৃত্যু মেনে নেওয়া খুবই কঠিন।
এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল ওহাব জনান, বুধবার দুপুরে ১২ জন বন্ধু মিলে নৌকা যোগে যমুনা নদীতে মাছ ধরতে যায়। হঠাৎ করে নৌকাটি নদীতে তলিয়ে গেলে ১১ জন তীরে আসতে পারলেও মোতালেব সরকার নদীতে তলিয়ে যায়। ফায়ার সার্ভিস ও ভূঞাপুর থানা পুলিশ অনেক চেষ্টা করলেও তাকে উদ্ধার করতে পারেনি।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার সার পলশিয়া এলাকার যমুনা নদী অংশে তার লাশ ভেসে ওঠে।