
প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২১, ২:১৫

পূর্নিমার জোঁতে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত আবারও বালু ক্ষয়ের কবলে পড়েছে। দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ্য সমুদ্র সৈকত পূর্নিমার জোঁতে তীব্র ভাংগনের ফলে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে সৈকতের বনাঞ্চলসহ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
অপরিকল্পিত সৈকত রক্ষা বাঁধ, সৈকত রক্ষায় নিম্নমানের উপকরন ব্যাবহার, সৈকত রক্ষা বাঁধ নির্মানের সময় যথাযথ তদারকি না থাকায় প্রতি বছর বর্ষা মওসুমে সৈকতের বালু ক্ষয় হয়ে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত দিন দিন শ্রীহীন হয়ে পড়েছে।
কলাপাড়া পানি উন্নায়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মওসুম শুরু হওয়ার আগেই কুয়াকাটা সৈকতের মুল পয়েন্ট থেকে পুর্বদিকে ১ হাজার মিটার ও পশ্চিমে ৫শ মিটারে জিভি কোম্পানির জিওটিউপ ব্যাগ দিয়ে সৈকত রক্ষার জন্য কাজ করে।
এ কাজে ব্যায় ধরা হয় ৩ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। নিম্নমানের জিওটিউপ ব্যাগ দিয়ে কাজ করায় কুয়াকটায় প্রথম ঝাপটায়ই অধের্ক ব্যাগ থেকে বালু বের হয়ে গেছে। এ ছাড়া মাটি থেকে পানির স্ত্মর বেশী এবং ব্যাগের উ"চতা কম হওয়ায় কোন ভাবেই পানি আটকনো যাচ্ছেনা।
অবস্থা এমন স্বাভাবিক ঢেউয়ের ঝাপটাটেই কুয়াকাটা সৈকতের বালুক্ষয় হয়ে যাচ্ছে। এ কাজ নিয়ে সব মহলে চলছে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড়। পাউবো কর্তৃপক্ষ বলছে উল্টো কথা পাবলিক চলাচলে ব্যাগ ছিড়ে ফেলছে যার জন্য বালু বের হয়ে গেছে।
সরেজমিনে সৈকতে গিয়ে দেখা যায়, ঢেউয়ের ঝাপটায় পড়ে থাকা ছোট দোকানগুলো ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে সাগর গর্ভে। একদিকে করোনায় লকডাউনে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত অন্য দিকে ঢেউয়ে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দোকান পাঠ এ যেন মরার উপরে খরার ঘা।

সৈকতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী কাওসার বলেন পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রতি বছর এইদিন আসলেই কাজে নামেন। তাও আবার যেমন তেমন ভাবে লোক দেখানো কাজ করে। এ কারনে সৈকত রক্ষায় কোনো সুফল আসে না।
কুয়াকাটা সংবাদকর্মী আনোয়ার হোসেন আনু বলেন, কুয়াকাটা সৈকতকে রক্ষার জন্য দরকার টেকসই মহাপরিকল্পনা যাতে সমুদ্র সৈকত রক্ষা পায় এবং আগত পর্যটকরা বিনোদন পায়। নিন্মমানের কাজের কারণে বার বার হোচট খেতে হচ্ছে।
কুয়াকাটা পৌর মেয়র আনোয়ার হোসেন হাওলাদার বলেন, কুয়াকাটা পৌর সভায় সৈকত রক্ষায় কোনো বাজেট নেই। সৈকত রক্ষায় সরকারের গ্রোইন বাঁধ করা উচিত।
কলাপাড়া পানি উন্নায়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মো. হালিম সালেহী সাংবাদিকদের জানান, কুয়াকাটা সৈকত রক্ষায় আমাদের অফিসের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরজমিনে পরিদর্শন করেছে।
তবে পূর্ব পার্শ্বে জরুরীভাবে সৈকত রক্ষায় কিছু জিও ব্যাগ দেয়ার স্বিদ্ধান্ত হয়েছে। স্থায়ী প্রকল্প পাঠিয়েছি। বরাদ্ধ পেলে কাজ শুরু করা হবে।