
প্রকাশ: ২৬ জুলাই ২০২১, ১৯:১৬

সারা দেশে সরকার ঘোষিত ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধের আজ চতুর্থ দিনে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আসছেন ঢাকাগামী যাত্রীরা। গণপরিবহন বন্ধ থাকলেও যাত্রীরা নানা উপায়ে ঘাটে আসছেন। নানা অজুহাতে ফেরি পারাপার হচ্ছেন যাত্রীরা।
এদিকে নদীতে তীব্র স্রোত ও কঠোর বিধিনিষেধে যানবাহনের চাপ কমে যাওয়ায় ফেরি চলাচল সীমিত করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে জরুরি প্রয়োজনে ৮ টি ফেরি উভয় ঘাট থেকে চলাচল করছে। আর এই ফেরিগুলোতে পারাপার হচ্ছেন যাত্রীরা।
তবে উভয় ঘাটেই যাত্রী বা যানবাহনের অতিরিক্ত কোনো চাপ নেই। ঘাটে আসামাত্রই ফেরিতে উঠতে পারছে যাত্রী ও যানবাহন।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ফেরিঘাট সূত্র জানাযায়, শুক্রবার সকাল ছয়টা থেকে সারা দেশে কঠোরতম বিধিনিষেধ শুরু হলে গণপরিবহনের সঙ্গে বন্ধ রাখা হয় লঞ্চ চলাচল। ঈদের দ্বিতীয় দিন গত বৃহস্পতিবার দিন-রাত নৌপথে দিয়ে অসংখ্য যাত্রী রাজধানী ঢাকায় পৌঁছায়।
কোনো ট্যাগ পাওয়া যায়নি
শুক্রবার ভোর থেকে প্রশাসনের কড়াকড়ি বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণপশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আটকা পড়ে ঈদে বাড়িতে ফেরা ঢাকাগামী যাত্রীরা। আটকা পড়া যাত্রীদের একটি অংশ শনিবার থেকে আজ সোমবার সকাল থেকে থেমে থেমে ভিড় করছে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে।
ঘাটে দায়িত্বরত পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘সাধারণ যাত্রী পারাপার ফেরিতে পুরোপুরি বন্ধ। এরপরও যাত্রীরা জরুরি কাজের নানা অজুহাত দেখাচ্ছে। কেউ বলছে অসুস্থ, কেউ বলছে রোগী দেখতে যাবে, কেউবা বলছেন চাকরি বাঁচাতে হলে ঢাকায় যেতেই হবে। আমরা নিষেধ করলেও তারা ফেরিতে উঠে যাচ্ছে। কিছু বেপরোয়া যাত্রীকে কোনোভাবেই আটকে রাখা যাচ্ছে না।
সোমবার দুপুরে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাট এলাকায় ভ্যান, রিকশা, মোটরসাইকেল, মাহিন্দ্রা, অটোরিকশাসহ থ্রি-হুইলারে করে ঘাটে এসে পৌচাচ্ছেন যাত্রীরা। এরপর যাত্রীরা ফেরিঘাটে দায়িত্বরত পুলিশ, আনসার, ঘাট কর্তৃপক্ষকে নানা অজুহাত দিয়ে পন্টুনের কাছে যাচ্ছেন।

ফেরি আসামাত্রই তাঁরা ঢাকার উদ্দেশে দৌলতদিয়া ঘাটে পৌঁছাতে পারছেন। এই যাত্রীরা ঘাট পর্যন্ত আসতে চরম দুর্ভোগ আর অতিরিক্ত ভাড়া গুনছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
যশোর থেকে আসা ঢাকাগামী যাত্রী মো. আলিয়ার রহমান বলেন, ‘ঢাকায় স্ত্রী অসুস্থ। আমি ঢাকা না গেলে স্ত্রীকে ডাক্তার দেখানোর কেউ নেই। জরুরি কাজ ছাড়া তো আর ঢাকায় যাচ্ছি না।
গ্রামের বাড়ি থেকে শুরু করে অন্তত ১০ জায়গায় এই ব্যাপারটা আমাকে বুঝিয়ে ঘাটে আসতে হয়েছে। ভেঙে ভেঙে দৌলতদিয়া ঘাটে আসতে হাজার টাকার বেশি খরচ হয়ে গেছে।
কুষ্টিয়ার খোকসা থেকে আসা আরেক যাত্রী কুলসুম বেগম বলেন, ‘জরুরি দরকারি কাজে ঢাকা যাচ্ছি। পথে পুলিশ জিজ্ঞেস করেছিল। আমি জরুরি কাজের কথা বলেছি। তাই তাঁরা আমাকে ছেড়ে দিয়েছেন। ফেরিঘাটে এসে সমস্যায় পড়তে হয়নি। ঘাটে আসার পর ২৫ টাকা ভাড়া কেটে পন্টুনে দাঁড়িয়ে আছি ফেরির অপেক্ষায়।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে আসা ঢাকাগামী যাত্রী ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে দেশের বাড়িতে আসি। এখন তো ঢাকায় যেতেই হবে। বাসা খালি পড়ে আছে। তাই কষ্ট-দুর্ভোগ আর ভাড়া বেশি দিয়ে হলেও ঘাটে আসছি। এখন কোনোমতে ঢাকায় পৌঁছাতে পারলেই হয়।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো: জামাল হোসেন বলেন, পদ্মায় তীব্র স্রোত ও বিধিনিষেধে যানবাহনের চাপ কমে যাওয়ায় সকাল থেকে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ৮টি ফেরি জরুরি প্রয়োজনে আসা অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, পণ্যবাহী ট্রাক পারাপার হচ্ছে। সেই সাথে ফেরিতে যানবাহনের সাথে বিভিন্ন অজুহাতে যাত্রীরা নদী পার হচ্ছে।