
প্রকাশ: ১৭ জুলাই ২০২১, ২০:২৬

আসন্ন ঈদ-উল আযহাকে সামনে রেখে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পেয়েছে দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম নৌরুট দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে। প্রতিবছর ঈদ উপলক্ষে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের ১৮-১৯টি ফেরি চলাচল করে দৌলতদিয়া- পাটুরিয়া নৌরুটে। বর্তমানে এই নৌরুটে ১৬টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ।
তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচল চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের দৌলতদিয়া প্রান্তে যানবাহনের দীর্ঘ সাড়ি সৃষ্টি হচ্ছে। এই মূহুর্তে দৌলতদিয়া প্রান্তে পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে ৬-৭ শতাধিক যানবাহন। যানবাহনের মধ্যে বেশিরভাগ পশুবাহী ট্রাক রয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতি সামাল দিতে কঠোর অবস্থানে রাজবাড়ী জেলা পুলিশের সদস্যরা।
রাজবাড়ী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, এ বছর ঈদু-উল আযহাকে সামনে রেখে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের রাজবাড়ী অংশ যানজটমুক্ত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য জেলা পুলিশের ১৬০ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।
শনিবার সকালে রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কের গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে ৩ শতাধিক যানবাহন। ২-৩দিন পর্যন্ত অপেক্ষা গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় ফেরির অপেক্ষায় রয়েছে এসব অপচনশীল ট্রাক,কভার্ড ভ্যান ও খালি ট্রাকগুলো। সেখান থেকেই গাড়ীগুলোর নিয়ন্ত্রণে নিচ্ছে পুলিশ। সেখান থেকে যাত্রীবাহী বাস, পশুবাহী পরিবহন ও ব্যক্তিগত প্রাইভেটকারগুলোকে ফেরিঘাটে আসার অনুমতি দিচ্ছে পুলিশ।
অন্যদিকে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পদ্মার মোড় পর্যন্ত পারাপারের অপেক্ষায় রয়েছে ৫-৬ শতাধিক যাত্রীবাহী বাস ও পশুবাহী ট্রাক। মহাসড়কের ৫ কিলোমিটার অংশ সচল রাখতে পদ্মায় মোড় এলাকা থেকে ছোট প্রাইভেটকার গুলোকে গোয়ালন্দ বাজার সড়ক দিয়ে দৌলতদিয়া ট্রাক টার্মিনাল এলাকায় প্রবেশের ব্যবস্থা করছে পুলিশ।
মেহেরপুর থেকে ছেড়ে আসা পশুবাহী ট্রাকচালক মো. ওমর হোসেন বলেন, ঈদকে সামনে রেখে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ১৫-১৬টি ফেরি দিয়ে সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। কোরবানি ঈদে বেশিরভাগ মানুষ গ্রামের বাড়ীতে যায়। অন্যদিকে গ্রাম থেকে প্রচুর পশুবাহী ট্রাক ঢাকায় প্রবেশ করে। শুধুমাত্র ফেরি সংকটের কারণে আমাদের ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে পুলিশের কর্মকান্ড ও ব্যবস্থাপনা ভালো ছিলো।

মাগুরা থেকে ছেড়ে আসা বাস চালক কামরুল হাসান বলেন, ফেরি সংকটের কারণে এ বছর এত ভোগান্তি। ঈদকে সামনে রেখে বিধি-নিশেষ শিথিল করা হয়েছে। যে কারণে মানুষ বাড়ীতে যাচ্ছেন। এসব বিষয় মাথায় রেখে ফেরির সংখ্যা বৃদ্ধি করার দরকার।
দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্টে দায়িত্ব পালনকালে ট্রাফিক পুলিশ সদস্য বলেন, আমি কিশোরগঞ্জ থেকে রাজবাড়ীতে এসেছি। এবারই প্রথমবার ঈদে উপলক্ষে দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে দায়িত্ব পালন করছি। এত গাড়ীর চাপ কোনদিন দেখিনি। অনেক গরুর গাড়ীর চাপ রয়েছে। এই চাপ ক্রামাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিসির) দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের ম্যানেজার মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, বিধি নিষেধ শিথিলের ৩য় দিনেও ঘাটে প্রচুর গাড়ীর চাপ রয়েছে। আমি নতুন এসেছি। তবে পরিস্থিতি সামাল দিয়ে পুলিশ কঠোর পরিশ্রম করছে।
রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার এম এম শাকিলুজ্জামান বলেন, দৌলতদিয়া প্রান্তে পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের চাপ রয়েছে। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ফেরি সংকট রয়েছে। ঈদ এবং ঈদের পরবর্তী সময়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক সচল রাখা এবং পশুবাহী ট্রাকগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। জেলা পুলিশের প্রতিটি সদস্য আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে তাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে।স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে সবাইকে অনুরোধ করেন জেলা পুলিশের শীর্ষ এই কর্মকর্তা।