প্রকাশ: ১৫ জুলাই ২০২১, ১:২৩
আমাদের দেশ বাংলাদেশ,95 ভাগ মুসলমান আমাদের এই দেশে বসবাস করে থাকে।মুসলমানদের জন্য আল্লাহ তাআলা বছরে দুটি ঈদ ফরজ করে দিয়েছেন, আর এই ঈদকে ঘিরে আমাদের মাঝে তৈরি হয় আনন্দ। ঈদ-উল-ফিতর চলে গেলেও আর কিছুদিনের মধ্যে আমরা পবিত্র ঈদুল আযহা উপভোগ করব অর্থাৎ কোরবানি ঈদ। এই ঈদে নিজের সামর্থ ও পছন্দমত কোরবানির পশু কিনতে হাটে যাবেন মুসল্লিরা। সেই লক্ষ্যে শিল্পাঞ্চল সাভারে ১৩টি ও ধামরাইয়ে ৭টি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা।
বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) দুপুরে হাট অনুমোদনের বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন সাভার ও ধামরাই উপজেলার দুই নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাজহারুল ইসলাম ও হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী।এরআগে, গতকাল বুধবার (১৪ জুলাই) দুপুরে এই দুই উপজেলা থেকে ২০টি পশুর হাটের কাঙ্ক্ষিত ইজারাদারদের কাছে অনুমোদন দেওয়া হয়।
এবার সাভারের ছয় ইউনিয়নে মোট ১২ টি পশুর হাট বসবে। এরমধ্যে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নে ঋষিপাড়া এলাকায় একটি, ইয়ারপুর ইউনিয়নের নরশিংহপুর বটতলা গবাদিপশুর হাটে একটি , পাথালিয়া ইউনিয়নের কুরগাও বটতলা মাঠে একটি, আশুলিয়া ইউনিয়ন দুইটি কুটুরিয়া আদর্শ সংঘ এলাকায় একটি ও সোনার বাংলা ফ্যক্টরি সংলগ্ন মাঠে একটি। শিমুলিয়া ইউনিয়নে তিনটি গোহাইলবাড়ী কেন্দ্রী জামে মসজিদ মাঠে একটি, পারাগ্রাম জামে মসজিদ মাঠে একটি, বিকেএসপির প্রাচীরের কাছে একটি করে মোট তিনটি।
এদিকে ধামসোনা ইউনিয়নের মোট চারটি গরুর হাট অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। সেগুলো হলো-ডেন্ডাবর আকবর হাজির টেকের মাঠ, ফারুকনগর ইসমাইল বেপারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ, ঘোরাপীর মাজার মাঠ ও বগাবাড়ি বাজারের পাশে বসুন্ধরা মাঠ। এদিকে সাভার পৌরসভা এলাকায় একটি হাটের অনুমোদন দিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।অপর দিকে ধামরাইয়ের কালামপুর, বাথুলি, বারবাড়িয়া, শরিফবাগ, কুল্লা ইউনিয়ন ও পৌরসভার ঢুলিভিটা এলাকায় মোট ৭টি গরুর হাট বসানো হয়েছে।
হাট ইজারাদাররা বলছেন, স্বস্থ্য সুরক্ষারসহ নানা সুবিধা হাতে নিয়ে তারা এবারের হাট পরিচালনা করবেন। আশুলিয়ার নরসিংহপুর বটতলা এলাকার পশুর হাটের ইজারাদার মোঃ নূরুল আমিন সরকার বলেন,নরসিংহ পুর এই হাটটি সব সময় আমরা করে থাকি চলছে বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাসের তাণ্ডব । প্রথমে করোনাভাইরাস এর জন্য হাটের অনুমোদন না দিলেও জননেত্রী শেখ হাসিনা মুসলমানদের কথা চিন্তা করে সকল স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমাদেরকে হাট পরিচালনা করতে বলেছেন।
তাই এবারের গরুর হাট নিয়ে থাকছে আলাদা আয়োজন এই হাটে ক্রেতা সাধারন যাতে করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পশু বেচাকেনা করে এজন্য আমরা হাট কর্তৃপক্ষ নিয়েছি নানা পদক্ষেপ। যেমন, থার্মোস্কেনার মেশিনের মাধ্যমে শরীরের তাপমাত্রা নির্ণয় ও মাস্ক ছাড়া যেন কেউ গরুর হাটে প্রবেশ না করতে পারে এজন্য থাকবে বিশেষ নজরদারিতা। বিদ্যুৎ চালিত অটোমেটিক স্প্রে, সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার সুব্যবস্থা ও হাটজুড়ে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া মাইকিং এর মাধ্যমে স্বাস্থ্যবিধি মানতে বারবার মনে করিয়ে দেয়া হবে।
এবং দূর দূরান্ত থেকে আগত বেপারী ভাইদের জন্য থাকা, খাওয়ার সুব্যবস্থা করেছি।স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে এই অস্থায়ী পশুর হাটগুলোর জন্য নানা নিয়ম বেধে দেওয়া হয়েছে৷ সে নিয়ম অমান্য করলে ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন, এবারে ধামরাইয়ে সাতটি পশুর হাটের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। হাটগুলো বর্তমান করোনা পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রেখে চলে পারে এমন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া হাটের সকল ইজাদারদের সাথে মিটিং করে কয়েকটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে গরুর হাটের অনুমোদনের বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ মাজহারুল ইসলামের মুঠোফোনে গতকাল বুধবার দিনভর ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের খুদে বার্তা পাঠানোর পর। রাতে তিনি এক খুদে বার্তায় জানিয়েছেন, '১২ টি পশুর হাট অনুমোদন পেয়েছে।সরকারের সকল নির্দেশনাগুলো যারা হাট অনুমোদন পেয়েছে তাদেরকে লিখিতভাবে দেয়া হয়েছে।'