
প্রকাশ: ১৩ জুলাই ২০২১, ১:১৯

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের বেতকা গুচ্ছগ্রামে ৮০টি ঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ করেছে সুবিধাভোগীরা। ঘর নির্মাণের দুই বছর পার হলেও এখনো ঘরগুলো পরিত্যাক্ত অবস্থায় পরে আছে।
দীর্ঘদিন পরিত্যাক্ত অবস্থায় থাকায় ঘরগুলো হয়ে পড়েছে বসবাস অনুপযোগি। ফলে গুচ্ছগ্রাম প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গৃহহীন ৮০টি পরিবার। কোন ঘরেই বসবাস করতে পারছেন না তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড হল বেতকা। গ্রামটির চারিদিক পদ্মা বেষ্টিত হওয়ায় যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম বাহন হচ্ছে নৌকা। গত এক দশকে নদীর ভাঙনে সহায় সম্বলহীন অসহায় পরিবার গুলোর বসবাস এখানে।
এ সকল ভূমি ও গৃহহীন মানুষের জন্য তৈরি করা হয় ৩০০'শ বর্গফুটের দুই রুমের একটি ঘর। টিন, লোহা আর কংক্রিটের খুটিতে এসব ঘরে কোন কাঠ ব্যবহার করা হয়নি। সামনেই রয়েছে ছোট বারান্দা। বারান্দার একপাশে রান্নার জায়গা। সারি সারি ঘরগুলো দুই বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে।
কিন্তু এখনো কোন ঘরেই মাটি ভরাট করা হয়নি। ঘরের মাঝখানে দেয়া হয়নি বেড়া। ফলে সুবিধা ভোগীরা ঘরে বসবাস করতে পারছে না। দুই বছর ধরে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ঘরগুলো পরে থাকার কারনে টিনের বেড়া খুলে পরছে। কংক্রিটের খুটিগুলো ভেঙে পরছে।
বেশ কয়েকটি টিউবয়েল এরই মধ্যে চুরি হয়ে গেছে। প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ সুবিধা দেয়ার কথা থাকলেও কোন ঘরেই এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা দেয়া হয়নি। পাঁচটি পরিবারের জন্য একটি টিউবয়েল আর রয়েছে স্বাস্থ্যসম্মত একটি টয়লেট। টয়লেটগুলো ভেঙ্গে পরেছে। টিউবয়েল চুরি হয়ে যাচ্ছে।

নদী ভাঙ্গনে ভুমিহীন ও গৃহহীন মানুষের কোন কাজেই আসছে না কোটি টাকা ব্যয়ে বেতকা গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলো। বেতকা গুচ্ছগ্রাম নামে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে এবং শেষ হয় ২০১৯ সালের মাঝামাঝিতে। চারিদিকে পদ্মা নদী আর প্রত্যান্ত এলাকা হওয়ায় কেউই খোজ রাখেনি এই প্রকল্পের।
ঘর পাওয়া রাজু সরদার বলেন, আমার পরিবারে সদস্য পাঁচজন। ঘরটি পেয়ে অনেক খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু ঘরে মাটি ভরাট করা হয়নি। নিজেরা ঘরে মাটি দিতে গেলে আট থেকে দশ হাজার টাকা লাগবে। এতটাকা কোথায় পাবো। আর টাকা থাকলে কি আর সরকারের ঘর নিতাম।
লোকমান প্রামানিক বলেন, প্রতি বছর বর্ষায় বাড়ি ঘরে পানি ওঠে। কত কষ্ট করে থাকি। সরকার ঘর দিলো সেই ঘরে থাকতে পারছি না। একলাই ভেঙেচুরে পরছে। ঘরের মাটি ফেলানো টাকা সাহেবরা চুরি করে খেয়েছে।
দেবগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাফিজুল ইসলাম বলেন, অনেক দিন হলো ঘরের কাজ শেষ হয়েছে। কিন্তু ঘরে মাটি দেয়া হয়নি। ফলে সুবিধা ভোগীরা বসবাস করছে না। এতদিনে কেন ঘরে মাটি ফেলা হলো না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার আগের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে গুচ্ছগ্রামে মাটি ফেলা হয়, কাজেই এ বিষয়ে কোন কিছু বলা মুশকিল।
তিনি বলেন, ঘর নির্মাণের সময় একাধিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বদলি জনিত কারণে ওই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়নি। তবে দ্রতই ঘরে মাটি ফেলে ঘরগুলোকে বসবাস উপযোগি করা হবে।
গোয়ালন্দ উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আজিজুল হক খান মামুন বলেন, আমি নতুন এসেছি, বিষয়টা আমার জানা নেই। তবে সরেজমিন গিয়ে দেখে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান করে ঘরগুলো বসবাস উপযোগি করে সুবিধা ভোগীদের ঘরে ওঠার ব্যবস্থা করবো।