প্রকাশ: ৭ জুলাই ২০২১, ৪:৫৫
ভোলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পঙ্গাসিয়া গ্রামে রিক্সা চালক মোঃ মঞ্জুর আলমের ঘরে ডাকাতি করতে এসে তার তিন মাসের শিশুকে হত্যার ঘটনায় মঞ্জুর আলম ও স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় ভোলা মডেল থানায় হত্যা,ধর্ষণ, ও ডাকাতির মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
ভোলা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ এনায়েত হোসেন তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মঞ্জুর আলম ও তার স্ত্রীকে হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আমরা চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছি। গৃহবধূ জানিয়েছে তার স্বামীসহ সন্তান নিয়ে রাতে ঘুমাছিলেন। বুধবার গভীর রাতে ৪ জনের একটি ডাকাত দল তাদের ঘরে প্রবেশ করে গৃহবধূকে বেঁধে ধর্ষণ করে। ওই সময় তার তিন মাসের শিশু কন্যা জেগে উঠলে তাকে মুখ চেপে ধরে দরজা খুলে ডোবায় ফেলে দেয়।
পরে ডাকাত সদস্যরা ডাকাতি করে পালিয়ে যায়। তবে গৃহবধূর দাবি করেন ডাকাত দলের কাউকে চিনতে পারেননি। এবং পুরো ঘটনা সময় তার স্বামী ঘুমিয়ে ছিলেন। ডাকাতরা চলে গেছে তার শব্দকে স্বামী জেগে উঠেন।তিনি আরো জানান, এ ঘটনায় ভোলা সদর হাসপাতালে নিহত শিশু লাশ ময়না তদন্ত ও গৃহবধূর মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে। এ ঘটনায় রিক্সা চালক মোঃ মঞ্জুর আলম বাদি হয়ে হত্যা, ধর্ষণ ও ডাকাতি মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এছাড়াও পুরো ঘটনাটির তদন্ত চলছে।
এদিকে, পশ্চিম ইলিশা ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ গিয়াস উদ্দিন ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ সেলিম হাওলাদার জানান, বুধবার সকালে দিকে তারা খবর পেয়ে মঞ্জুর আলমের বাড়িতে যান। মঞ্জুর স্ত্রী তাদের জানায় স্বামী সন্তানসহ তিনি নিয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়লে। গভীর রাত আড়াইটার দিকে ৪ জন ডাকাত মুখোস করে তাদের ঘরে প্রবেশ করে।
ওই সময় হাত, পা ও মূখ বেঁধে রাখেন ডাকাত সদস্যরা। এসময় তার শিশু সন্তান উঠে কান্না করলে ডাকাতরা তাকে ঘরের দরজা খুলে পুকুরে ফেলে দেয়। পরে ডাকাতরা ঘরে থাকা নগদ ১৩ শ’ টাকা ও চেইন, কানেটাসহ প্রায় এক ভরি স্বর্ণাঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যায় ডাকাতরা। পরে তার স্বামীর ঘুম ভাঙলে সে সব খুলে বলে। এবং পুকুর থেকে তার শিশুর লাশ উদ্ধার করেন।
তারা আরো জানান, বিষয়টি শুনে ইউপি চেয়ারম্যান পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে আসে এবং মঞ্জুর আলম ও তার স্ত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেয়।