প্রকাশ: ২৮ এপ্রিল ২০২১, ১১:৯
পঞ্চগড় শহরে আছিয়া খাতুন নামে (২২) এক দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারী ভিক্ষুকের কাছ থেকে টাকা নিয়ে হাতে জাল নোট ধরিয়ে দেয়ার ঘটনা ঘটেছে।আজ মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে পঞ্চগড় জেলা শহরের কদমতলা উত্তরা ব্যাংকের সামনে এ ঘটনাটি ঘটে ৷ দৃষ্টি প্রতিবন্ধীর আছিয়া খাতুনের তথ্য মতে তার বাবার বাড় দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার তেরো মাইল বাকপুর এলাকায়। বর্তমানে তিনি পঞ্চগড় সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের সিএন্ডবি মোড় এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে চার বছর বয়সী একমাত্র মেয়ে জান্নাতুনকে নিয়ে থাকেন ।
আছিয়া খাতুন জন্ম থেকেই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। ভিক্ষাবৃত্তি করে চলে তার জীবন সংগ্রাম। জন্ম থেকে তিনি অন্ধ। গত দশ বছর পূর্বে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়নের টুনিরহাট এলাকার ভ্যানচালক শহিদুল ইসলামের সাথে আছিয়া খাতুনের বিয়ে হয়।
বিয়ের কিছু দিন তার এক পূত্র সন্তান জন্ম হলেও তিন পর মারা যায়। পরে দুই তিন বছর পর তার কোলে আবার এক কন্যা সন্তান জন্ম হয়৷ তার রেখেছে জান্নাতুন । তার বয়স ৪ বছর৷ স্বামী ঘরে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রী। আছিয়াকে তার স্বামী ভরনপোষণ ও দেখভাল না করায় তিনি ভিক্ষাবৃত্তি করে চলে তার একমাত্র মেয়ে জান্নাতুনকে সাথে নিয়ে আর সারাদিন ভিক্ষা করে পান তা দিয়ে চলে তার জীবন৷
এদিকে প্রতিদিনের মতো আছিয়া খাতুন আজ মঙ্গলবার সকালে মেয়েকে নিয়ে উত্তরা ব্যাংকের ও সাফি লাইব্রেরি ও স্টেশনারি দোকানের সমানে ভিক্ষাবৃত্তি শুরু করেন। দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন মানুষের কাছে হাত পেতে প্রায় ১শ টাকা উত্তোলন করেন একদিকে ছোট বাচ্চার ক্ষুধার আর্তনাদ ও অন্যদিকে খরা রৌদ্র যেন আছিয়াকে আরও পিড়া দেয়।
হঠাৎ এক অচেনা মানুষ আসে আছিয়াকে কাছে ৪০ টাকা দান করার করার কথা বলে ৬০টাকা ফেরত নিয়ে তার হাতে একটি একশ টাকার জাল নোট (খেলনার নোট) ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত ওই স্থান থেকে চলে যায়। এদিকে আছিয়া কাছে নোটটা মোটা মনে হওয়ায় আশপাশের মানুষদের বললে তারা জানায় এটা জাল নোট। জাল নোটের কথা শুনে আছিয়ার চোখে মুখে হতাশা আর আহাজারি শুনে আশপাশের মানুষ ছুটে গিয়ে তাকে সান্ত্বনা দেয়।
#ইনিউজ৭১/জিহাদ/২০২১
এবিষয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক আছিয়া খাতুন বলেন,আমি আজ সকালে ভিক্ষা করার জন্য বসি । দুপুর পর্যন্ত ভিক্ষা করে প্রায় এক টাকার মতো জমা করে ছিলাম হাতে। এসময় এক ব্যক্তি আসে বললো আমি ৪০ টাকা দান করবো একশ টাকার নোট দিচ্ছি ৬০ টাকা ফেরত দাও।
পরে আমি ৬০ টাকা ফেরত দিলে আমাকে ওই ব্যক্তি একটি একশ টাকার নোট দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায় পরে আমার নোট দেখে সন্দেহ হলে আশপাশের দোকানদার ভাইদের বললে তারা বলে এটা জাল টাকা। আমি সারাদিন ভিক্ষা করে যে টাকা পাইছি সব নিয়ে গেলো। আমার মতো গরীবের টাকা যে নিয়ে গেছে তার ভাল হবে না এমন ব্যথিত কন্ঠ কথাগুলো বলে কান্নায় ভেঙে পড়ে আছিয়া।
এবিষয়ে কথা হয় প্রত্যাক্ষদর্শী সাফি লাইব্রেরি এন্ড স্টেশনারি দোকানের মালিক শাহাদাত হোসেন জানান,আছিয়া নামে ওই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক প্রতিদিন আমার দোকানের সামনে বসে ভিক্ষা করেন। সারা দিন যা ভিক্ষা পায় তা দিয়ে তার মেয়েকে নিয়ে জীবন যাপন করেন। কিন্তু দুপুর বেলা হঠাৎ কে বা কারা তাকে একটি একশ টাকার জাল নোট নিয়ে তার কাছে টাকা নিয়ে গেছে৷ তবে যেই এই কাজ টা করেছে আছিয়ার সাথে এটা করা ঠিক হয়নি৷ সে ভিক্ষা করে চলে তার টাকা চুড়ি করে নিয়ে যাবে এটা হাস্যকর যেমন তেমনি কষ্টকরও বটে। পরে তার কান্নাকাটি দেখে আমরা তার কাছ গিয়ে সান্ত্বনা দেই এবং তাকে টাকা দেই।
একই কথা বলেন,আবু বক্কর নামে এক পথচারী, তিনি জানান,আছিয়া প্রতিদিন ভিক্ষা করে বাজারে। আজ হঠাৎ করে আছিয়ার হাতে জাল নোট ধরিয়ে দিয়ে তার টাকা নিয়ে হাতিয়ে নিয়ে চলে গেছে এক ব্যক্তি। তার মতে একজন অসহায় ভিক্ষুকের টাকা নিয়ে যাওয়া বা তার সাথে এমন প্রতারণা করা আসলেই দুঃখজন ঘটনা৷ আছিয়াকে যদি সরকার বা প্রশাসন কোন সহযোগিতা করতো তাহলে তার জন্য ভাল হতো।
এদিকে সেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন 'পঞ্চগড়বাসী' র সংগঠক মাফিউল আলম প্রধান রিফাত ওই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী নারী ভিক্ষুককে জাল টাকা ধরিয়ে দিয়ে তার টাকা নিয়ে যাওয়াট ঘটনাটও একটি দুঃখজনক ঘটনা। আছিয়া আমাদের মতো মানুষদের সহযোগিতা নিয়ে জীপন যাপন করেন। পঞ্চগড়ের মতো জায়গায় ভিক্ষুকের টাকা চুরি কিংবা প্রতারণা করে নিয়েও যাওয়ার ঘটনা প্রথম শুনলাম৷ তবে তার মতো মানুষকে সহযোগী করা আমাদের সবার উচিত। প্রশাসন যদি তাকেমকোন সহযোগীতা করতো তাহলে তিনি তার মেয়েকে নিয়ে হয়তো একটু ভাল থাকতে পারতো।
#ইনিউজ৭১/জিহাদ/২০২১