প্রকাশ: ১০ মার্চ ২০২১, ১৬:৪১
নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলায় একটি জন্ম সনদের আবেদন সত্যায়িত করার অপরাধে হাতিয়া দ্বীপ সরকারি কলেজের প্রভাষক আজগর হোসেনকে গত মঙ্গলবার বিকালে নিজ অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে লাঞ্চিত করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে। এসময় ভুক্তভোগী শিক্ষককে একরকম অবরুদ্ধ করে রাখা হয়।
পরে কলেজের উপাধ্যক্ষ তোফায়েল আহম্মেদ গিয়ে ঐ শিক্ষককে ইউএনওর কার্যালয় থেকে ছাড়িয়ে আনেন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কলেজের ছাত্র-ছাত্রীরা রাতেই সোশাল মিডিয়াতে ইউএনওর বিরুদ্বে বিভিন্ন পোষ্ট দিতে থাকে।
বুধবার সকালে হাতিয়া দ্বীপ সরকারী কলেজের সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা এই বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ব্যক্ত করে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশ পরবর্তী বক্তব্যে সাধারন ছাত্র-ছাত্রীরা বিভিন্ন অনিয়ম ও আপত্তিকর আচরণের বিষয় তুলে ধরে অবিলম্বে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইমরান হোসেনর প্রত্যাহার দাবি করেন।
এসময় ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে নজরুল ইসলাম রাজু, জহির উদ্দিন স্বপন, সাজেদ উদ্দিন, শাকিল শামীম, জামিল ইসলাম রকি, শেখ শামীম, লিমন এবং ইউএনও কর্তৃক লাঞ্ছিত হোটেল কর্মচারী আজিমসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন। । বক্তারা ৪৮ ঘন্টার মধ্যে তাদের দাবী মানা না হলে আরো কঠোর কর্মসূচী দেওয়ার ঘোষনা দেন।
এই বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হাতে লাঞ্চিত কলেজ প্রভাষক আজগর হোসেন বলেন, কিছুদিন পূর্বে আমার এলাকার একটি ছেলে এসে আমার কাছ থেকে একটি জন্ম সনদের আবেদন সত্যায়িত করে নেয়। তাতে বয়সের একটি গরমিল ছিল বলে পরে আমি জানতে পারি। এই বিষয়ে গত মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন আমাকে তার কার্যালয়ে ডেকে নেন।
সত্যায়িত করার বিষয়টি আমার ভুল হয়েছে বলার পর তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গাল মন্ধ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে তিনি তার অফিসের কর্তব্যরত আনসারকে দিয়ে আমার হাতে থাকা মোবাইল ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্ঠা করেন। সবশেষে তিনি আমাকে দিয়ে জোর পূর্বক আমার ভুলের জন্য একটি লিখিত মুছলেখা নিয়ে নেন। খবর পেয়ে আমার কলেজের উপাধক্ষ্য তোফায়েল আহম্মেদ গিয়ে আমাকে তার কার্যালয় থেকে ছাড়িয়ে আনেন। এই ঘটনায় আমি খুবই অপমানিত হয়েছি।
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরান হোসেন বলেন, কলেজের শিক্ষক আজগর হোসেন একটি ভুয়া জন্মসনদের আবেদনে সত্যায়িত করেছে। এই বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে আরো উত্তেজিত হয়ে যায়। পরে তার কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে আমি ডেকে এনে বিষয়টি দেখাই। সেও বিষয়টি দেখে জন্ম সনদের আবেদনে সত্যায়িত করার বিষয়টি ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন। পরে তারা চলে যান। এখানে কাউকে লাঞ্ছিত করা হয়নি।