
প্রকাশ: ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৩২

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ভারতের আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে এখনো নিজেদের অবস্থানে অটল রয়েছে। বিশেষ করে ভারতের মাটিতে ম্যাচ খেলাকে কেন্দ্র করে যে নিরাপত্তা শঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা থেকে সরে আসতে নারাজ বোর্ড। এ ইস্যুতে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ইতোমধ্যে বিসিবির সঙ্গে আলোচনায় বসার উদ্যোগ নিয়েছে। মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) অনলাইনে দুই পক্ষের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
আইসিসির যেকোনো বড় টুর্নামেন্টের আগে আয়োজক দেশ ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে নির্দিষ্ট চুক্তি হয়। সেই চুক্তি অনুযায়ী, কোনো দল যদি নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী খেলতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে আইসিসিকে তার গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা দিতে হয়। সাধারণত সরকারি নিষেধাজ্ঞা বা নিরাপত্তাজনিত কারণকে এই ক্ষেত্রে সবচেয়ে যৌক্তিক ও গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করা হয়।
এর আগেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এমন দৃষ্টান্ত রয়েছে। ভারত–পাকিস্তান সিরিজ বাতিল, ভেন্যু পরিবর্তন কিংবা নিরপেক্ষ মাঠে ম্যাচ আয়োজনের পেছনে একই যুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা আইসিসি মেনে নিয়েছে। এমনকি চলমান বিশ্বকাপেও পাকিস্তানের কিছু ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের সিদ্ধান্ত তারই উদাহরণ।
এবার সেই পথেই হাঁটতে চায় বিসিবি। বোর্ডের প্রধান উদ্বেগ ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে। বাংলাদেশের সরকারি পর্যায় থেকেও জানানো হয়েছে, ভারতে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপত্তা পুরোপুরি নিশ্চিত নয়। এই কারণেই বাংলাদেশ দল ভারতে যেতে অনিচ্ছুক এবং তাদের ম্যাচগুলো অন্য কোনো দেশে আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছে বিসিবি।
সম্প্রতি মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় ভারতের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক ও উগ্র সংগঠনের হুমকির কথা উল্লেখ করে বিসিসিআই যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা বাড়িয়েছে। বিসিবির প্রশ্ন, একজন নির্দিষ্ট খেলোয়াড়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে পুরো দলের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলামও প্রকাশ্যে বলেছেন, এই মুহূর্তে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা নিরাপদ মনে হচ্ছে না। তিনি মোস্তাফিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে অসম্মানজনক বলেও মন্তব্য করেছেন। জানা গেছে, আইসিসির মধ্যস্থতায় বিসিসিআই রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের নিরাপত্তা দেওয়ার প্রস্তাব দিতে পারে, তবে তাতেও বিসিবি সন্তুষ্ট নাও হতে পারে।
আয়োজক হিসেবে বিসিসিআইয়ের ওপর এখন বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। সব দলের অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা তাদের দায়িত্ব। ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে ইঙ্গিত মিলেছে, বাংলাদেশের ম্যাচ অন্য দেশে সরানোর বিষয়ে আইসিসি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
বিশ্বকাপ শুরুর এক মাস আগে ভেন্যু পরিবর্তন করা কঠিন হলেও বিসিবির বিশ্বাস, নিরাপত্তার মতো যুক্তিসংগত কারণের কারণে শেষ পর্যন্ত বড় কোনো শাস্তির মুখে পড়তে হবে না। পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।