
প্রকাশ: ১৯ ডিসেম্বর ২০১৯, ১৭:৫

ছোট্ট একটি আমল। যার অসংখ্য নেয়ামত তুলে ধরলেন বিশ্বনবি। এ আমলটি হলো ধৈর্যধারণ করা। এ ছোট্ট আমলটি শুধু মানুষের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যই নয়, বরং মহান আল্লাহ তাআলার অন্যতম গুণ। আল্লাহ তাআলা মানুষকে তার এ গুণে নিজেদের রঙিন করার ঘোষণা দিয়েছেন। হাদিসে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ধৈর্যধারণকারীদের জন্য সুনিশ্চিত অসংখ্য নেয়ামত লাভের ঘোষণা দিয়েছেন।
যারা আল্লাহর অনুসরণ ও অনুকরণে সব কাজে নিজেদের ধৈর্যশীল হিসেবে প্রস্তুত করবেন আল্লাহ তাদের শুধু সাহায্যই করবেন। দুনিয়া ও পরকালে শুধু নেয়ামতই দান করবেন না বরং তাদের সঙ্গে থাকবেন। এমন ঘোষণাই দিয়েছেন তিনি। আল্লাহ তাআলা বলেন-
ধৈর্যশীলদের মর্যাদা যে কারণে বেশি
তিনি সেই মহান সত্তা, যিনি সর্ব শক্তিমান। তিনি ইচ্ছা করলেই মুহূর্তের মধ্যে সব অবাধ্যকারীকেই ধ্বংস করে দিতে পারেন। কিন্তু না, তিনিই সেই মহান সত্তা যিনি চরম অবাধ্যতায় সৃষ্টি জগতের কাউকে ধ্বংস করেন না। বরং পরম ধৈর্যের সঙ্গে অকৃতজ্ঞ ও অবাধ্য বান্দার সব অন্যায় ও অনিয়ম সহ্য করেন। চরম অবাধ্যতায় আল্লাহ তাআলা অকৃতজ্ঞ বান্দাদেরও তিনি আলোবাতাস ও রিজিক দিয়ে সুস্থ, সবল ও সুন্দরভাবেই বাঁচিয়ে রাখেন।

বান্দার ধৈর্যের পরীক্ষা ও নেয়ামতের ঘোষণা
ধৈর্যধারণ প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অসংখ্য নেয়ামতের ঘোষণা দিয়েছেন। যাতে মানুষ ধৈর্যধারণে উদ্বুদ্ধ হয়। অধৈর্য না হয়। আর তাহলো-
>> ধৈর্য মানুষের জন্য অনেক বড় নেয়ামত। সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মুমিন পুরুষ-নারীদের দৈহিক, আর্থিক ও পারিবারিক বিপদ-আপদ মৃত্যু পর্যন্ত আসতেই থাকে। যারা এতে ধৈর্যধারণ করে, এ দ্বারা তাদের গুনাহ ক্ষমা হয়।’
>> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরও বলেন, ‘যে মুসলমান মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে বসবাস করে এবং তাদের অত্যাচার-উৎপীড়ন ধৈর্যের সঙ্গে বরণ করে নেয়; নির্জনবাসী সুফিসাধক ব্যক্তি থেকে তারা বহুগুণে উত্তম।’

>> রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, আল্লাহ তাআলা কোনো লোককে যে বিশেষ মর্যাদা দান করেছেন, তা কোনো ইবাদত-বন্দেগি দ্বারা অর্জিত হয়। বরং শুধু ধৈর্যজনিত কারণেই আল্লাহ তাআলা তা দান করেছেন।’
>> ধৈর্যধারণ মুমিনের জন্য কত বড় নেয়ামত। যে ব্যক্তি নিজের জান-মালের ক্ষতি গোপন করে ধৈর্যধারণ করবে, আল্লাহর জন্য সে ব্যক্তিকে ক্ষমা করা ওয়াজিব হয়ে যায়। হাদিসের ঘোষণা-
>> আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন তাকেই বেশি বেশি বিপদ-আপদ দিয়ে পরীক্ষা করেন। আবার যারা এ বিপদে ধৈর্যের পরীক্ষায় পাস করেন তাদের ব্যাপারে হাদিসে ঘোষণা-
সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত বিপদ যত কঠিনই হোক না কেন, ধৈর্যধারণই তার সর্বোত্তম কাজ ও গুণ। যে গুণে নিজেকে রাঙাতে পারলেই যেমনি সফল হবে দুনিয়ার জীবন তেমনি পরকালের জীবনেও সে হবে সফল।
পরিশেষে…
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে দুনিয়ার সবক্ষেত্রেই সর্বোচ্চ ধৈর্যধারণ করার তাওফিক দান করুন। ধৈর্যের রঙে নিজেদের রাঙানোর তাওফিক দান করুন। হাদিসে ঘোষিত ধৈর্যধারণের সব নেয়ামত লাভ করার তাওফিক দান করুন। সর্বোপরি ধৈর্যধারণ করার মাধ্যমে আল্লাহকে সব সময় নিজেদের সঙ্গী হিসেবে পাওয়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।
ইনিউজ ৭১/এম.আর