
প্রকাশ: ১৫ মার্চ ২০২৪, ১৭:১৬

পবিত্র মাহে রমজানের সওগাতঃ সিয়াম সাধনা হচ্ছে নেকী অর্জনের মাস। মহানবী (স:) ইরশাদ করেন আদম সন্তানের নেক আমলের সাওয়াব ১০গুন থেকে ৭০০গুন বৃদ্ধি করা হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা বলেন কিন্তু সিয়াম পালনের প্রসঙ্গটি ব্যতিক্রম। যেহেতু সিয়াম হচ্ছে শুধুমাত্র আমারই জন্যে। সেহেতু আমি স্বয়ং এর উপযুক্ত প্রতিদান দেবো। রোজাদারের জন্য রয়েছে ২টি আনন্দ একটি তার ইফতারের সময় আর অপরটি হবে তার প্রতিপালকের সাথে সালাতের সময়।
রোজার উপকারীতাঃ (১) রোজার দ্বারা প্রবৃত্তির উপর আকলের পরিপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্টিত হয়। (২) রোজার দ্বারা অন্তরে আল্লাহর ভয়ভীতি সৃষ্টি হয়। (৩) রোজার দ্বারা মানুষের স্বভাবে নম্রতা ও বিনয় সৃষ্টি হয়। (৪) মানুষের দূরদর্শিতা প্রখর হয়। (৫) রোজার দ্বারা মনে এমন এক নূরানী শক্তি সৃষ্টি হয় যার দ্বারা সৃষ্টির রহস্য সমন্ধে অবগত হওয়া যায়। (৬) রোজার বরকতে মানুষ ফেরেশতা চরিত্রের কাছাকাছি পৌছতে পারে। (৭) রোজার বরকতে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, মমত্ববোধ এবং পরস্পরের প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি হয়। (৮) রোজা পালন করা আল্লাহ প্রতি গভীর মহব্বতের অন্যতম নিদর্শন। (৯) রোজা মানুষকে শয়তানের আক্রমন থেকে হিফাজত করে। (১০) রোজার দ্বারা মানুষের শারীরিক সুস্থতা অর্জিত হয়।
রোজার প্রকারভেদঃ (১) নির্দিষ্ট ফরজ যেমন রমজানের রোজা (২) অনির্দিষ্ট ফরজ রমজানের কাযা ও কাফফারার রোজা। (৩) নির্দিষ্ট ওয়াজিব নির্ধারিত দিনের মানতের রোজা। (৪) অনির্দিষ্ট ওয়াজিব মানতের রোজা (৫) সুন্নাত রোজা- আশুরার রোজা তবে শুধু আশুরার দিন রোজা না রেখে এর সাথে ৯ অথবা ১১ তারিখের রোজা রাখা উত্তম। (৬) মুস্তাহাব রোজা- প্রতি মাসের ১৩, ১৪, ১৫ তারিখের রোজা, জুমারদিনের রোজা এবং আরাফার দিনের রোজা। (৭) হারাম রোজা-দুই ঈদের দিন ও যিলহজ্জের ১১, ১২, ১৩ তারিখের রোজা। (৮) মাকরুহ রোজা- শুধুমাত্র আশুরার দিন, শনিবার দিন, সৌরবর্ষের প্রথম দিন এবং পারষিকগণের উৎসবের দিন।
স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীদের মতে- প্রত্যেক মানুষের জন্য বছরে কয়েকদিন উপবাস থাকা আবশ্যক। তাদের মতে স্বল্প খাদ্য গ্রহন স্বাস্থের জন্য খুবই উপকারী।

৫ম তারাবিহঃ কালামে পাক থেকে যা তিলাওয়াত করা হয়েছে ৭ম পারা-সূরা আল মায়িদা ৮৩ আয়াত থেকে ৮ম পরার অর্ধাংশ সূরা আল আরাফের ১১ আয়াত পর্যন্ত। এখান থেকে শিক্ষনীয় ও গ্রহনীয় বিষয় হচ্ছে আল্লাহ তায়ালা তোমাদের যে হালাল ও পবিত্র রিজিক দান করেছেন তোমরা তা খাও"। (সুরা আল মায়িদা ৫:৮৮) "হে মুমিনগণ নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, পূজার বেদী, ও ভাগ্য নির্ণায়ক স্বর হচ্ছে ঘূর্ণিত শয়তানের কাজ। তোমরা তা সম্পূনরূপে বর্জন কর। (সূরা আল মায়িদা ৫৯০)
লেখা: মাওলানা মোহাম্মদ আমির হোসেন তালুকদার, অধ্যক্ষ, কাউনিয়া বালিকা আলিম মডেল মাদ্রাসা, বরিশাল।
চলবে ....