
প্রকাশ: ১২ মার্চ ২০২৪, ২২:৩৬

পবিত্র মাহে রমজানের সওগাত: প্রত্যেক মুসলমানদের জন্য রমজান হচেছ মহান আল্লাহ পক্ষ থেকে এক বিশেষ নেয়ামত। যার মধ্যে রয়েছে রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি। পবিত্র সিয়াম এর মাধ্যমে মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিন ও তার প্রিয় বান্দার সাথে মহব্বতের এক সেতু বন্ধন সৃষ্টি হয়। মানুষের আত্মীক উৎকর্ষ সাধিত হয়। নৈতিক দায়িত্ববোধ বৃদ্ধি পায়। মুসলিম উম্মাহ এর জন্য রমজান মাসের সর্বশ্রেষ্ঠ নিয়ামত হলো আল- কুরআনুল কারিম, যা এ মাসেই অবর্তীন হয়েছে। সর্বশেষ, সর্বশ্রেষ্ঠ বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হযরত মুহাম্মদ (সঃ) এর প্রতি। কুরআন হচেছ মানব জাতির পুর্নাঙ্গ জীবন বিধান।
মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন- রমজান মাস হচেছ এমন একটি মাস যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে। আর এই কুরআন হচেছ মানব জাতির জন্য পথের দিশা। সৎ পথের সুস্পষ্ট নিদর্শন এবং মানুষের জন্য হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাসটি পাবে, সে এই মাসে রোজা রাখবে। তবে যে অসুস্থ হবে কিংবা সফরে থাকবে সে পরবর্তী সময়ে গুনে গুনে সেই পরিমানে দিন রোজা আদায় করে নিবে। (সূরা আল-বাকারা ২।১৮৫)
কোন প্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তি যদি ওযর না থাকা সত্ত্বেও রোজা না রাখে তবে সে গুনাহগার হবে। আর রোজার ফরজিয়াত অস্বীকার করে তবে সে কাফের বলে বিবেচিত হবে। হাদীস শরীফে আরও বলা হয়েছে যে, হযরত আবু হুরায়রা হতে বর্নীত রাসূল (সঃ) বলেছেন কেউ যদি শরয়ী কোন ওজর এবং সুস্থতা থাকা সত্ত্বেও রমজানে কোন একটি রোজ না রাখে তবে সারা জীবন রোজা রাখলেও তা পূরন হবে না। রোজার প্রকৃত হাকীকত এবং তাৎপর্য হচেছ তাকওয়া ও হৃদয়ের পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে আল্লাহ সন্তুষ্টি অর্জন করা।
পবিত্র রমজানের ফযিলতঃ মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ইরশাদ করেন যে ব্যক্তি প্রথম রমজানে রোজা রাখে। আল্লাহ তায়ালা অতীত রমজানের ঐ তারিখ পর্যন্ত তার অতীতের গুনাহ মাফ করে দেন। প্রত্যেক দিন সকাল থেকে সন্ধা পর্যন্ত ৭০ হাজার ফেরেশতা রোজাদারের জন্য মাগফিরাতের প্রার্থনা করতে থাকেন। রোজদারের রমজানের দিবা রাতের প্রত্যেক সেজদার পরিবর্তে জান্নাতে এমন একটি ছায়াদার বৃক্ষ সৃষ্টি করেন যে উহার ছায়ায় ঘোড় সওয়ার ৭০০ বছর পর্যন্ত দৌড়াতে পারে। (বায়হাকী)

রোজা পালনের ফলে মানুষের যে শারীরিক কল্যান সাধিত হয় তার বিবরন কায়রো থেকে প্রকাশিত Science calls for fasting গ্রন্থে পাওয়া যায়। পাশ্চাত্যের প্রখ্যাত চিকিৎসগণ একবাক্যে স্বীকার করছেন্য The power and endurance of the body under fasting conditions are remarkable after a fast properly taken the body is literally born afresh.
রোজা একই সাথে দেহের রোগ প্রতিষেধক ও প্রতিরোধক হিসাবে কাজ করে। রোজা পালনের ফলে দেহের রোগ জীবানু বর্ধক জীর্ন অস্ত্রগুলো ধ্বংস হয়। ইউরিক এসিডের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে নানা প্রকার নার্ভ সংক্রান্ত রোগ বৃদ্ধি পায়। রোজাদারের শরীরের পানির পরিমান হ্রাস পাওয়ার ফলে চর্ম রোগ বৃদ্ধি পায় না। রোজা শেষ করা হয় ইফতার অনুষ্ঠানের মাধ্যমে, এটি সুন্নাত। এই ইফতারের উপকরনগুলোর মধ্যেও বিশেষ স্বাস্থ্যগত তাৎপর্য রয়েছে।
লেখা: মাওলানা মোহাম্মদ আমির হোসেন তালুকদার, অধ্যক্ষ, কাউনিয়া বালিকা আলিম মডেল মাদ্রাসা, বরিশাল।
চলবে....