সঙ্গত কারনেই এসব বানোয়াট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আত্মপক্ষ সমর্থন করে কিছু কথা বলতে হচ্ছে। এই বায়তুল আমান জামে মসজিদ এস এম আলম সরদার বাড়ি মসজিদ। তখন এই মসজিদের আয়তন ছিল লম্বায় ১৪ হাত ও চওড়া ৭ হাত। মেঘনা নদীর করাল গ্রাসে গঙ্গাপুর, লামচরী ,টুমচর ও টুমচর গ্রাম নদীর বুকে বিলিন হয়ে গেলে ১৯৮১ সালে আমি জমি কিনে নতুন পাড়া বসতি স্থাপন করি ও বাড়ির সামনে মসজিদ তৈরি করি। তখন এই এলাকা এতটা জনহীন ও অনিরাপদ ছিল যে , ভয়ে দিনের বেলা মানুষ চলাফেরা করত না।
এই এলাকা বনখলা হিসেবে পরিচিত ছিল। আমি মসজিদের নামে ০.২ শতাংশ জমি দান করি যার বি এস খতিয়ান নং ২২ এবং মসজিদের পাশে ১৯৯৫ সালে আমার পিতার নামে কেরামতিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা করি। এই মাদ্রাসা থেকে একজন পূর্ণ হাফেজও হয়েছিল।
এবার মূল প্রসঙ্গে আসি, আমার বাড়ির দক্ষিণ পার্শ্বে জনাব মোঃ বদিয়াল হক সিকদার ও কালু সিকদার নামের দুইজন ব্যক্তি বাড়ি করেন এবং তাদের জমিতে কাঁচা কেটে সীমানা নির্ধারন করেন। দীর্ঘ ৪০ বছর এই সীমানা মোতাবেক আমি ও তারা জমি ভোগ দখল করছি। কিন্ত গত ১৮ মার্চ ২০১৯ সালে এনায়েত সিকদারের ছোট ভাই জনাব মোঃ শহিদ সিকদার আমার জমির ভিতরে ঘরের কাজ শুরু করে। তখন আমি বাধা দিতে গেলে এনায়েত সিকদারের ভাই-বোন ১৫-২০ জন আমাকে আক্রমণ করতে উদ্যত হয়। তখন আমি হিজলা থানাকে অবহিত করলে, পুলিশ প্রশাসনের সহযোগিতায় স্থাপনার কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হয় তারা।
পরবর্তিতে এনায়েত সিকদার, মোঃ শহিদ সিকদার গং ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনালে আমাকে এবং মসজিদকে বিবাদী করে মামলা দায়ের করেন, যাহার মামলা নং ৭৭৬/২০১৯ ইং।
বায়তুল আমান জামে মসজিদ ও আমার নামে বিজ্ঞ আদালত নোটিশ প্রদান করলে, আমি আদালতে হাজির হয়ে বর্ণনা দাখিল করি। বায়তুল আমান জামে মসজিদ ভাঙতে না পারলে এনায়েত সিকদার অবৈধভাবে আমার জমি দখল করতে পারবেনা। তাই মিথ্যাবাদী ও অপবাদকারী এই দল ছলচাতুরি করে লোকেদের কাছে বলে বেড়ায় মসজিদ উন্নয়ন করবে।সেই উন্নয়ন রুখে দেওয়ার কাল্পনিক কাহিনি রচনা করে ফেইসবুকসহ অনলাইনের নানা মাধ্যমে মিথ্যা অপপ্রচার করে। এসবে সহায়তা করার জন্য এনায়েত সিকদারের কাছ থেকে কিছু অসৎ লোক অর্থ গ্রহণ করে একটা সন্ত্রাসী দল গঠন করে। সেই দলটি মসজিদ ভেঙ্গে মসজিদের যাবতীয় মালামাল এনায়েত সিকদারকে দিয়ে দেয়।
উপায় না দেখে বিজ্ঞ উচ্চ আদালতে আশ্রয় নিলে, বিজ্ঞ উচ্চ আদালত তাদের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ করে দেন ,যাহার রিট মোকাদ্দেম নং ২৭৩১/২০২১ status quo in নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।
এই কুচক্রি ও ষড়যন্ত্রী মহল মসজিদকে কেন্দ্র করে নামাজিদের বিভ্রান্ত করার জন্য প্রথমে বলেছিলো যে, মসজিদের জমি ওয়াকফা করে দেওয়া না। একারনে এখানে নামাজ হবেনা। এতে কাজ না হলে, তারা ঈদের জামাত বানচাল করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে এই বিভ্রান্তি দূর করার জন্য আমি (মোতাওয়াল্লী) মসজিদে একটি সভার
আয়োজন করে উপস্থিত মুসুল্লিদেরকে মসজিদের নামে ০.২ শতাংশ জমি দান করার ডকুমেন্টস দেখাই, যাহার বি এস খতিয়ান নং ২২।
আমার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আমি ১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত ১৭ বছর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ছিলাম। সর্বাবস্থায় জনগণের সেবার জন্য অনেক রাস্তা ,পুল নির্মাণ করে দিয়েছি। তাছাড়া ব্যক্তিগত অর্থ দিয়ে রাস্তা করেছি , জনগণের মধ্যে দান করেছি। আর এই মিথ্যুকের দল রটিয়েছে, আমি অর্থ আত্মসাৎ করেছি। আমি দ্বিধাহীন কন্ঠে বলতে চাই, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ যদি কেউ প্রমান করতে পারে তাহলে তাকে পুরস্কৃত করা হবে।
আমি মসজিদ,মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজসহ অন্যান্য বহু প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলাম। কখন কোন অর্থ আত্মসাত করিনি। বরং নিজের অর্থ,মেধা,শ্রম, দিয়ে প্রতিষ্ঠানের সেবা করেছি । উদাহারন হিসেবে বলতে চাই, আমি ধনু সিকদার বাজারের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সভাপতি হিসেবে ৮ বছর দায়িত্ব পালন করেছি। সে সময় মসজিদের ভবন নির্মাণ ও পুকুরের ঘাট পাকা করার কাজ সম্পন্ন করা হয়।এসব কাজে অর্থ-শ্রম দিয়ে সার্বিক সহযোগীতা করেছিলেন মুসল্লী ও বাজারের ব্যবসায়ী বৃন্দ। আমার দায়িত্ব পালনের সময় কোনো প্রকার অনিয়ম নিয়ে কেউ প্রশ্ন তুলতে পেরেনি। বর্তমানে হরিনাথপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজী আব্দুল লতিফ খান ধনুসিকদার বাজারের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ভবনের কাজ করছেন তাতেও সার্বিক সহযোগিতা করছি।মেঘনা নদী ভাঙ্গনে যখন সব কিছু বিলিন হয়ে যায় তখন মেমানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মেমানিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় স্থানান্তর করে বর্তমানে পূর্বকান্দিতে স্থাপন করা হয়। উক্ত কাজে প্রধান শিক্ষক মরহুম সালাউদ্দিন ও সহকারী প্রধান মরহুম মাস্টার মোঃ আফজাল মুন্সির সাথে সার্বিক সহযোগিতা করেছি । হরিনাথপুর বালিকা বিদ্যালয় প্রথমে ছিলো পূর্বকান্দিতে পরে নদী ভাঙ্গনে ওই স্কুলের নাম বাতিল করে নিজ অর্থ খরচ করে আমার নিজস্ব জমিতে ৪০ হাত লম্বা ও ৯ চওড়া স্কুল প্রতিষ্ঠা করি । কিন্ত স্কুলের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ জমি পাওয়া না গেলে পরবর্তীতে হরিনাথপুর ইউনিয়নের প্রাক্তন
চেয়ারম্যান কাজী কামাল উদ্দিনকে সার্বিক সহযোগিতা করে বর্তমান জায়গায় স্থানান্তরিত করি। হরিনাথপুর বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে যে হেলথ কমপ্লেক্স তা কবির কাজী ও আমি সম্পন্ন করি। হরিনাথপুরের এমন কোনো প্রতিষ্ঠান নেই যেখানে আলহামদুলিলাহ আমার কোনো অবদান নেই। সব সময় মানুষের সেবা করার জন্য মেধা,শ্রম ও অর্থ ব্যয় করেছি। এসব কাজে আমার নামে এই দীর্ঘ জীবনে কেউ কোন প্রকার অভিযোগ করতে পারেনি। অথচ এই কুচক্রী ও ষড়যন্ত্রী মহল আমার নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে, আমার পরিবারের সদস্যদের সম্মান নষ্ট করার হীন অপচেষ্টা করছে।
মুনাফিকের দল আমি মসজিদের গাছ বিক্রি করিনি, মসজিদের গাছ বিক্রি করে আল্হেলালে অপারেশন করে আপনাদের দলনেতা ছালাউদ্দিন সর্দার। আমি কখনও কারো কাছ থেকে মসজিদ কিংবা মাদ্রাসার জন্য চাঁদা উত্তোলন করিনি। যে বা যারা এই অপপ্রচার করে তাদের উদ্দেশ্য অসৎ।
আমার যে ভবনে ব্র্যাক অফিস ভাড়া নিয়েছে তা মসজিদের টাকা দিয়ে নির্মাণ করা নয়। আমি মসজিদের নামে কোন টি আর আনি নাই।এই অপপ্রচার যারা করে তাদের কাছে আমার প্রশ্ন, কোথা থেকে টি আর আনে? কোন তারিখে হিজলা অফিস থেকে তুলে এনেছি মোকাদ্দেম কত? এগুলোর উত্তর দিতে পারবে কেউ?
আজ প্রায় ১০ বছর আমি নিজে বায়তুল আমান জামে মসজিদের ইমামের বেতন, বিদ্যুৎ বিলসহ অন্যান্য খরচ বহন করছি। টি আর এনে সেই টাকা ভাগাভাগি করেছে ছালাউদ্দিন সরর্দার, জানে আলম এবং হেলাল।
আমি কোন চরে জমি দখল করি নাই? বরং আমার জমিতে বহু লোক বসবাস করছে। কোথায় কোন জমি আমি দখল করেছি সেইসব জমির দাগ খতিয়ানসহ হাজির হওয়ার আহবান করছি। জমি দখলের প্রমাণ দিতে পারলে পুরস্কার দেওয়া হবে।
আমার দীর্ঘ জীবনে কোনো লোক আমার চরিত্র সম্পরর্কে কোনো রূপ খারাপ
মন্তব্য করতে পারেনি। অথচ এলাকার একটি কুচক্রি মহল আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার জন্য আমার বিরুদ্ধে উটেপড়ে লেগেছে। ফেইসবুকসহ অনলাইনের নানা মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও বানোয়াট পোষ্টের মাধ্যমে আমার ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুন্ন এবং মসজিদকে ধ্বংস করার জন্য অপপ্রচার চালানো হচ্ছে ।
এমন মিথ্যা,বানোয়াট ভিত্তিহীন অপপ্রচারের জন্য প্রতিবাদ ও ঘৃণা জানাচ্ছি এবং এহেন কর্মকান্ড থেকে বিরত হওয়ার আহবান করছি। অন্যতায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনসহ তথ্য প্রযুক্তি আইন-২০০৯ মোতাবেক মামলা করতে বাধ্য হব।
আলহাজ্ব এস, এম, খোরশেদ আলম
নতুন পাড়ার, ১ নং হরিনাথপুর ইউনিয়ন