
প্রকাশ: ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:১৭

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছে। দলটি জানিয়েছে, ক্ষমতায় গেলে আগামী পাঁচ বছরে সরকার পরিচালনায় ২৬টি বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। দলীয় নেতারা বলেন, এই ইশতেহার একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্য নিয়ে প্রণয়ন করা হয়েছে।
‘একটি নিরাপদ ও মানবিক বাংলাদেশ’ স্লোগানে ঘোষিত ইশতেহারে জাতীয় স্বার্থে আপসহীন অবস্থান, ইনসাফভিত্তিক মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং কার্যকর গণতন্ত্র নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
ইশতেহারে যুবকদের ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর সমাজ গঠন এবং ব্যবসাবান্ধব স্বচ্ছ অর্থনীতি বিনির্মাণের অঙ্গীকার করা হয়েছে।

নারীদের জন্য নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দলটি। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গঠন এবং মৌলিক মানবাধিকার নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে।
কৃষিতে বিপ্লব সৃষ্টি, ভেজালমুক্ত খাদ্য নিরাপত্তা এবং ‘তিন শূন্য ভিশন’ বাস্তবায়নের কথাও ইশতেহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে ব্যাপক শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
শ্রমিকদের মজুরি ও জীবনমান বৃদ্ধি, প্রবাসীদের অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সকল নাগরিকের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে জামায়াত। আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান ও শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারের কথাও বলা হয়েছে।
ইশতেহারের অন্যান্য অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বল্পমূল্যে আবাসন নিশ্চিত করা এবং সার্বজনীন সামাজিক নিরাপত্তাব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা। দলটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ কল্যাণরাষ্ট্র গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

