
প্রকাশ: ২৩ নভেম্বর ২০২৪, ১৭:১৪

ভারত-বিরোধিতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেছেন, জামায়াতকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভারত-বিরোধী হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সহাবস্থানের ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই।’’
ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দীর্ঘকাল ধরে জামায়াতের বিরুদ্ধে ভারত-বিরোধিতার অভিযোগ উঠলেও, ডা. শফিকুর রহমান এসব অভিযোগের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ‘‘এ ধরনের ধারণা আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অসত্য।’’ জামায়াতের আমির তার বক্তব্যে এও বলেন, তারা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী এবং এ ধরনের সম্পর্ককে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করতে চান।
ভারত-পাকিস্তানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মিশরের মুসলিম ব্রাদারহুডের আদলে ইসলামী দলগুলোর উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা কোনো আন্তর্জাতিক সংগঠনের অংশ নই, আমাদের নিজস্ব স্বাধীন নীতি ও আদর্শ রয়েছে।’’ তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আধুনিক, উদার এবং গণতান্ত্রিক দল, যা ইসলামী আদর্শের ভিত্তিতে রাজনীতি করে।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘‘জামায়াত কখনো সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগুরুভিত্তিক বিভাজনে বিশ্বাস করে না।’’ তিনি দাবি করেন, ‘‘আমরা বাংলাদেশের প্রত্যেক নাগরিককে সমান মর্যাদায় দেখি এবং আমাদের হিন্দু সম্প্রদায়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে।’’
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘‘আমরা ভারতসহ সব প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চাই, তবে তা হবে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘একটি বাস্তবোচিত এবং কার্যকর সম্পর্ক উভয় দেশের জন্যই লাভজনক হবে।’’
এখনো জামায়াতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে বিভিন্ন মতামত ও বিতর্কের মধ্যে এই মন্তব্যগুলি দেশটির রাজনৈতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে।