
প্রকাশ: ৭ এপ্রিল ২০২০, ২১:৫৪
করোনা ভাইরাসে দেশের মানুষ আতঙ্কিত। এদিকে মেয়ে ফারজানাকে খুঁজে পেতে পিতার আর্তনাদ। মেয়ে ফারজানা আক্তারকে(১৩) খুঁজে পেতে আর্তনাদ করছেন সন্তান হারা পিতা। মেয়েকে ফিরে পেতে সম্ভাব্য সকল চেষ্টা করেও ব্যর্থ অসহায় পিতা বিল্লাল মিয়া মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েছেন। নিখোঁজ ফারজানা আক্তার সরাইল উপজেলার সদর ইউনিয়নের সৈয়দটুলা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার হত দরিদ্র রিক্সা চালক বিল্লাল মিয়ার মেয়ে। গত ৩০মার্চ ঢাকার উত্তরার ৫নং সেক্টর, ১নং রোডের ২১নং বাসা থেকে কাজের মেয়ে ফারজানা আক্তার নিখোঁজ হয় বলে জানা গেছে। এ ব্যপারে নিখোঁজ ফারজানার পিতা বিল্লাল মিয়া বাদী হয়ে আজ মঙ্গলবার (৭এপ্রিল) দুপুরে সরাইল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
লিখিত অভিযোগে জানা যায়, বিল্লাল মিয়ার স্ত্রী সামসু বেগম গত ৫বছর আগে রোগাক্রানÍ হয়ে মারা যাওয়ার পর তার এতিম ৫ ছেলে মেয়ের মধ্যে ফারজানা আক্তার(১৩) ও শোভা আক্তার(৮) নামে এতিম দুই মেয়েকে তার আপন বোন মিনারা বেগম স্বামী সামসু মিয়া সাং শাহবাজপুর ধীতপুর, সরাইল। অসহায় ভেবে প্রায় ৪বছর আগে তার বাড়ি থেকে নিয়ে তার বোনের ননদ উপজেলার শাহবাজপুর এলাকার হনুফা বেগম পিতা আব্দুর রহমান, হনুফা বেগমের ভাই নাজির মিয়া ও হনুফা বেগমের পুত্র হারুন মিয়ার মাধ্যমে ঢাকার উত্তরায় ৫নং সেক্টর, ১নং রোডের ২১ নং বাসায় কাজের মেয়ে হিসেবে নিয়ে যায়। সেই থেকে তার মেয়ে ফারজানা আক্তার ভালভাবেই দিনযাপন করে আসছিল বরে তিনি জানান।
কিন্তু গত ৩০/০৩/২০২০ তারিখ আনুমানিক বিকাল ৪টায় ০১৯০৭১৭০৫৮৯ নম্বর থেকে তার মেয়ে ফারজানা তার ব্যবহৃত ০১৭৫৯৬৭০৭০৮ নম্বরে ফোন করে জানায় যে উক্ত বাসা থেকে ফারজানাকে মারধর করে বের করে দিয়েছে। এই কথা বলার পর মোবাইলের লাইন লাইন কেটে যায়। পরবর্তীতে এই খবরটি বিল্লাল মিয়া ঢাকার উত্তরায় বসবাসরত তার আত্বীয় হারুন মিয়াকে তার ব্যবহৃত ০১৭১৭৪৭২৫৩৩ নম্বরে ফোন দিয়ে তাকে ঘটনাটি জানান।
পরবর্তীতে হারুন মিয়া ফোনে বিল্লাল মিয়াকে জানান, তার মেয়ে ফারজানা বাসার মালিকের সাথে ঝগড়া করায় তাকে ৮০হাজার টাকা দিয়ে বাসা থেকে বের করে দিয়েছেন। সেই সাথে হারুন মিয়া বিল্লাল মিয়াকে আরও জানান তার ছোট মেয়ে শোভা আক্তার ঢাকার উত্তরায় অন্য একটি বাসায় (১৪নং সেক্টর, ১০ নং রোড, ২৯নং বাসা) কাজের মেয়ে হিসেবে রয়েছে। এর পর থেকে বড় মেয়ে ফারজানাকে খুজেঁ পাচ্ছেন না তিনি। ঢাকার উত্তরার উক্ত বাসায় ব্যবহৃত ০১৮৭৮৫৪৯২৫৫ নম্বরে ফোন দিয়েও বিল্লাল মিয়া তাদের কোনো সন্ধান পাওযা যায় নি।

যারা তার মেয়েকে ঢাকার উত্তরায় কাজের মেয়ে হিসেবে নিয়েছিল তাদের সাথে তিনি বার বার যোগাযোগ করলে তারাও এব্যাপারে কিছুই জানেন না বলে তারা তাকে জানান। এতিম দুই মেয়েকে খুঁজে পেতে সরকারের উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন হত-দরিদ্র রিক্সা চালক বিল্লাল মিয়া। প্রয়োজনে বিল্লাল মিয়ার ব্যবহৃত ০১৭৫৯৬৭০৭০৮ নম্বরে যোগাযোগ করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানিয়েছেন। সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ সাহাদাত হোসেন টিটো বলেন এ ব্যপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।