করোনা ভাইরাসে থমকে গেছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বিভিন্ন শ্রমজীবী সহ খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষগুলোর জনজীবন। বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের তান্ডবে লন্ডভন্ড শুধু শিক্ষা ও জনজীবনই নয়। প্রভাব পড়েছে অর্থনীতিতেও। সাজানো গোছানো সভ্যতা যেনো মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে কোন এক অদেখা মরণ নেশার আতঙ্কে।
আজকের এই সুন্দর সভ্যতা, সংস্কৃতিতে সবচেয়ে বেশি অবদান শ্রমজীবী মানুষের শরীরের ঘাম। করোনা ভাইরাস আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলেছে শ্রমজীবি মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। সরকার করোনার প্রাদুর্ভাব থেকে দেশের মানুষকে রক্ষা করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ সকল ধরনের জনসমাগম বন্ধ করেছে।
এক শ্রেনীর মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ী পন্যের মূল্য বৃদ্ধি করে শ্রমজীবী মানুষের ফেলেছে চরম দূর্ভোগে। এমন দুর্ভোগের মধ্যে রাস্তাঘাটে, দোকানে সর্বত্র মানুষের উপচে পড়া ভীড়। এরই মধ্যে মধ্যবিত্ত পরিবারের জনগণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বেশি করে ক্রয় করছেন এই জন্য যে, "পরে যদি পন্য না পাওয়া যায়"। এমন বোকা সিদ্ধান্তই বিপদে ফেলেছে সাধারণ শ্রমজীবী, রিক্সাচালক ও গার্মেন্টস সহ সমাজের বিভিন্ন নিম্ন আয়ের সাধারণ পেশাজীবী মানুষকে। চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, রসুন সহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য দিনদিন যেনো বেড়েই চলেছে। এগুলোর দাম কেজি প্রতি ৫-২০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেলেও এখন কিছুটা স্থিতিশীল।
কথা হয় এক চা স্টলের মালিকের সাথে। তিনি বলেন, মা-বাবা ও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তার সংসার। প্রতিদিনই পরিবারের জন্য কিছু না কিছু প্রয়োজন হয়। প্রতিদিনের রোজগার দিয়ে তিনি প্রতিদিনের বাজার করে সংসার চালায়। গত ২ সপ্তাহ ধরে প্রশাসনের নির্দেশে দোকান বন্ধ রয়েছে।পরিবারের সকলকে নিয়ে অনেক কষ্টে দিন কাটছে। এখন শুধু ধার দেনা করে সংসার চলছে। এভাবে আর কতদিন ধার করে সংসার চালানো যায় বলুন। আর কিছু দিন এই রকম থাকলে আমাদের না খেয়ে মরতে হবে।
এমন অস্বাভাবিক অবস্থার শিকার এক অটোভ্যান চালক কান্না বিজড়িত কন্ঠে আক্ষেপ করে বলেন, আমরা করোনায় মরবো না আমরা মরবো খিদায়। কারণ, এখন রাস্তায় মানুষ বের হয় কম। সারাদিনে অটোভ্যান চালিয়ে যা পাই, তা দিয়ে চাল কিনতে পারবো না, পারবো না ডাল কিনতে, পারবো না আমার ছোট বাচ্চাদের জন্য ঔষধ কিনতে। তিনি আক্ষেপ করে আরো বলেন, "আমাদের তো করোনা হবে না, আমাদের হবে না খেয়ে থাকার রোগ”।