
প্রকাশ: ৫ এপ্রিল ২০২০, ২২:৪২
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে যৌতুকের দাবীতে শ্বশুরবাড়ীর লোকজন সুমা আক্তার (২৩) নামের এক গৃহবধূকে নির্যাতনের পর গলায় উড়না পেচিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে হত্যার চেষ্ঠা করেছে বলে অভিযোগ নিহতের পরিবারের।
নিহতের বাবা যোদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, আমার মেয়ে ৫ বছর আগে একই এলাকার শহীদুল ইসলাম লুলুর ছেলে সাব্বির হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আমার কাছে যৌতুকের টাকা দাবী করে। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময় নগদ অর্থ ও স্বর্ণলংকার দেওয়া হয়। সর্বশেষ বিদেশ যাওযার সময় সাব্বিরকে নগদ ৪ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। তার কিছুদিন পর থেকে সুমার শ্বশুর ও স্বামী সাব্বির আরো টাকা দাবী করে।
এ নিয়ে ছেলের পরিবার ও আমাদের মধ্যে অনেক ঝামেলা সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে আমার মেয়ে আমাদের কাছে চলে আসে। ঘটনার কয়েকদিন আগে ছেলের পরিবারের লোকজন আমাদের বাড়ীতে এসে সকল সমস্যার সামাধন করবে বলে মেয়েকে নিয়ে যায়।
তারপর তাকে মানসিক ও শারিরীকভাবে নির্যাতন করে শ্বশুরবাড়ীর লোকজন। গত ২৬ মার্চ রাতে আমার মেয়েকে অত্যাচার করে গলায় উড়না পেচিয়ে ঘরের সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে হত্যার চেষ্ঠা করে। পরে খবর পেয়ে আমরা সুমাকে উদ্ধার করে প্রথমে দেলদুয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। পরে সেখান থেকে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে তার অবস্থা অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে ডাক্তার না থাকার কারনে সাভার সুপার ক্লিনিকে ভর্তি করি। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় সাতদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করে। আমার মেয়েকে যারা হত্যা করেছে তাদের বিচার চাই।
নিহতের মা বলেন, আমার মেয়েকে বিভিন্ন সময় টাকা পয়সার জন্য অনেক নির্যাতন করেছে সাব্বির ও তার পরিবার। সাব্বির বিদেশ যাওয়ার পর সুমার শ্বশুর কয়েকদিন মারধর করেছে। এ নিয়ে আমরা পারিবারিকভাবে অনেক বার সমাধান করার চেষ্টা করেও কোন লাভ হয়নি। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে বিভিন্ন সময় জামাতা সাব্বিরকে ৭ ভরি স্বর্ন ও নগদ ৪ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। কিন্তু এতেও তাদের মন ভরেনি। তারা আরো টাকা দাবী করে। আমার মেয়েকে তারা হত্যা করেছে। তাদের বিচার করেন। আমি তাদের বিচার চাই।
সুমার ফুপাতো ভাই সাজিদ জানায়, ঘটনার দিন রাতে আমি ও আমার সাথে থাকা আরো কয়েকজন সুমা আপার শ্বশুর বাড়ীর পাশ দিয়ে বাড়ী ফিরছিলাম। তখন ওই বাড়ীর লোকজনদের চিৎকার শুনে আমরা এগিয়ে যাই। বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করে দেখি সুমা আপার চাচা শ্বশুর সাঈদ, সুইট ও শ্বশুর শহীদুল দাড়িয়ে রয়েছে। আর সুমা আপার গলায় উড়না পেচানো অবস্থায় ঝুলছে। পরে আমি ও আমার আরেক ভাই তাকে উদ্ধার করি এবং হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করি।

এ বিষয়ে সুমার শ্বশুর শহীদুল ইসলাম লুলুর সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তার মেয়ে জানায়, বাবা একটি কাজে বাসার বাইরে আছে। যা কিছু বলা আমার সাথে কথা বলেন। এরপর লুলুর সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
দেলদুয়ার থানার উপ-পরিদর্শক মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, গত ২৬ তারিখ রাতে সুমা আক্তার নামে এক গৃহবধূ তার শ্বশুরবাড়ীতে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। পরে তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।
এ বিষয়ে আপাতত একটি অপমৃত্যুর মামলা নেওয়া হয়েছে। আর লাশের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।