
প্রকাশ: ২ এপ্রিল ২০২০, ৬:১৩

করোনা মহামারিতে যখন দেশ থমকে দাঁড়িয়েছে। ঠিক তখনই সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরণের উদ্যোগ হাতে নেয়া হয়েছে। দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রত্যেক জেলার জেলা প্রশাসকদের বিভিন্ন ধরণের কার্যক্রমসহ হতদরিদ্র ও কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষদের খাদ্য নিশ্চিত করার নির্দেশনা প্রদান করেন। তারই ধারাবাহিকতায় বরগুনার বিশেষ জনগোষ্ঠী বেদে পল্লীর বত্রিশ বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গ (হিজরা) পল্লীর আঠাশ হিজরাসহ মোট ষাট পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী (চাল,আলু,ডাল,তেল,সাবান) বিতরণ করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ্ তাঁর নিজ হাতে প্রত্যেক পরিবারের দোড় গোড়ায় গিয়ে এ খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। সেই সাথে তাঁদের বসবাস ও খাদ্যে কোনো সমস্যা দেখা দিলেই তাঁকে জানাতে বলেছেন।পাশাপাশি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গণদের খোঁজ-খবর রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়াও বেদে সম্প্রদায় গোষ্ঠির সন্তানদের লেখাপড়ার বিষয়ে তদারকি করেন। তারা যেনো তাদের সন্তানদের লেখাপড়া করান। এমনটা ছিলো তাঁর বিশেষ নির্দেশনা। করোনায় স্বাস্থ সুরক্ষায় মাস্ক পরিধান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারেও বিশেষ নজর দেয়ার অনুরোধ করেন বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গ (হিজরা) সম্প্রদায়কে। নিজ পকেট থেকে অর্থ দিয়ে সাহায্য করতেও দেখা গেছে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহকে।
প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে এ ত্রাণ সামগ্রী দেয়ার সময় জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ্ বলেন, আপনারা সকলে ঘরে অবস্থান করবেন। বারবার হাত ধৌত করা, কাপড়-চোপর পরিষ্কার রাখা অভ্যাসে পরিণত করবেন। আতঙ্ক না হয়ে সচেতন হওয়াটাই মূখ্য হবে আমাদের সকলের। কর্মহীন সকলকেই খাবার পৌঁছানো হবে। যাতে করে বরগুনাবাসী অনাহারে না থাকেন। এমন ধারা অব্যাহত থাকবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসার পূর্ব পর্যন্ত। ত্রাণ বিতরণকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটগণের মধ্যে সদর এসিল্যান্ড ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রুবাইয়া তাসনিম, মেহেদী হাসান, মার্জান হোসাইন, আরিফ উল্লাহ্ নিজামী, লায়েল এবং বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গ (হিজরা) সম্প্রদায়ের বসবাসকৃত এলাকা গৌরিচন্না ইউপি চেয়ারম্যান অ্যাড. মোঃ তানভীর আহমেদ সিদ্দিকি, প্যানেল চেয়ারম্যান সুজন সরকারসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বরগুনা জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কোয়ারেন্টাইনে থাকা ভাসমান বেদে ও তৃতীয় লিঙ্গ (হিজরা) জনগোষ্ঠীর নিকট জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ’র ঐকান্তিকতায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এসব পরিবারের জন্য নিত্য প্রয়োজনীয় খাবার, সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক সরবরাহ করা হচ্ছে। বরগুনার সকল পর্যায়ের স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সদস্যবৃন্দ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিগণ করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলা প্রশাসনের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন। এই সিঙ্গা লবি, দাঁতের পোঁকা ফেলাই, বাত ব্যাথা, মাজা ব্যাথা এমন সকল প্রলব বকে বিভিন্ন গাঁ-গ্রামে ঘুরে রোজগাড় করেন এই বেঁধে সমাজের মেয়েরা। সারাদিন খাঁটুনি শেষ করে খাবার সামগ্রী ক্রয় করে ছোট্ট তৈরি কুড়েঘর অথবা নৌকায় পাতানো মাটির উনুনেই রাঁধতে বসে যান। তবে এত কাজের মাঝেও নিজের শিশু সন্তানটিকে আঁচলের সাথে আগলে রাখেন। হয়তোবা এরা ভরা সমাজের থেকে আলাদা হলেও এদের নিজস্ব যে সমাজটি রয়েছে। সেখানেই সবার সাথে হাসি আর পরিবারের সবার সাথে নিজের সুখটুকু ভাগ করে নেন। আবার পাশাপাশি তৃতীয় লিঙ্গ (হিজরা) দের প্রত্যেক হাটের দিন দেখা যায় স্বল্প পরিমাণে হলেও বিভিন্ন দোকানীতে টাকার পাশাপাশি আলু,তেল,ডালসহ বিভিন্ন খাদ্য সামগ্রী তুলে থাকেন। এ সম্প্রদায় গোষ্ঠির জন্য সরকারিভাবে কোন বরাদ্দ না থাকার কারণে এমন কাজ করে থাকেন। শত বুক ভরা কষ্টের মাঝেও তবুও হাসি-খুশির কোন কমতি নেই। মনে হয়না তাদের কোনো কিছুর অভাব। তবুও মূল ধারার সমাজের থেকে আলাদা করে রাখার দৃষ্টিকোণ সরানোর মধ্য দিয়ে এদের বিশেষ নজরে এনেছেন সরকার।

বাংলাদেশের কোনো প্রান্তে ভূমিহীন থাকবেনা। মুজিববর্ষে এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কৃষকদের কৃষি পণ্য সরবরাহসহ তাঁদের বাঁচিয়ে রাখতেও সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। বরগুনা জেলায় সর্বস্তরে এসকল মানবিক সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে করোনা ভাইরাস এর সংক্রমণ এর বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়াও বরগুনা জেলার সকল এলাকার হতদরিদ্রসহ করোনা ভাইরাসের কারণে কর্ম হারানো মৌসুমী বেকারদের তালিকা করে জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন কর্তৃক প্রদানকৃত মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের তালিকায় থাকছে রিক্সা শ্রমিক, মটর সাইকেল শ্রমিক, ভ্যান শ্রমিক, যানবাহন শ্রমিক, লঞ্চ শ্রমিক, তৃতীয় শেণির তৃতীয় লিঙ্গ (হিজরা) জনগোষ্ঠী, বেদে জনগোষ্ঠী, এবং সামাজিক নিরাপত্তা খাতে অনিবন্ধিত অন্যান্য জনগোষ্ঠী। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এর নির্দেশে ইতোমধ্যে জেলার সকল খেয়াঘাট, অটোরিক্সা, ভ্যান ও সাপ্তাহিক হাট বন্ধ করা হয়েছে। এসব পেশায় আত্মতোষণ পর্যাযের শ্রমিকদেরকে মানবিক সহায়তার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।