
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৫:৪০

মাত্র ৪ মাসের ব্যবধানেই বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের চিত্র পাল্টে দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান (বিপিএম-বার)। তার সাহসী পদক্ষেপ, বিচক্ষণতা আর দূরদর্শীতায় সঠিক ও সময়োপযোগী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করার কারণেই বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগ আজ উদ্দীপ্ত উজ্জীবিত। ইতিপূর্বে কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান কুষ্টিয়া, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, রাজশাহী ও মুন্সিগঞ্জে পুলিশ সুপার, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম ও অপারেশন) এবং র্যাব-৪, র্যাব-১০ ও র্যাব- ১২ এর কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া একাধিকবার সাবেক যুগোস্লাভিয়া (কসভো) ও সুদানে শান্তি রক্ষা মিশনেও কৃতিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। আর এসব অভিজ্ঞতার আলোকে পুলিশের কাছে ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা ও সমস্যা চিহ্নিতকরণে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে বিএমপি পুলিশের সকল স্তরে সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়ে কাজ করছেন তিনি। তার এ দূরদর্শীতা ও চৌকস নেতৃত্বে বিএমপি পুলিশের প্রতিটি সদস্য উদ্দীপ্ত উজ্জীবিত। ইতিমধ্যেই তার বিচক্ষণতা ও কর্মদক্ষতার কারণে নগরবাসী এর সুফল পেতে যাচ্ছেন। মোদ্দাকথা তার যোগদানের ৪ মাসের মধ্যেই পাল্টে গেছে বিএমপি পুলিশের চিত্র। সম্প্রতি একান্ত আলাপকালে বিভিন্ন বিষয় উঠে এসেছে।


কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ব্যাপারে তিনি বলেন, অপরাধ দমনে কমিউনিটি পুলিশিং একটি বড় হাতিয়ার। সারা বিশ্বে এটা পরীক্ষিত। আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে পুলিশের মূল অস্ত্র হল, সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য পাওয়া। সাধারণ জনগণ যাতে সহজে পুলিশের কাছে তথ্য পৌছাতে পারে সেজন্য কমিউনিটি পুলিশিং একটি টিম ওয়ার্ক। সবাই মিলে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এক সঙ্গে কাজ করলে দেশের আইনশৃঙ্খলার উন্নতি হবে, দেশ এগিয়ে যাবে। তিনি বলেন, পুলিশকে জনগণের কাছাকাছি যেতে হবে, জনগণের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে।
স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিংয়ের ব্যাপারে কমিশনার শাহাবুদ্দিন খান বলেন, শিক্ষার্থীদের একটা বড় অংশ মাদকের মত মরণ নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। এসব মেধাবী শিক্ষার্থীদের ধ্বংসের পথ থেকে টেনে তুলতেই বরিশালের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘স্টুডেন্ট কমিউনিটি পুলিশিং’ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে ছাত্রসমাজে অপরাধ প্রবণতা কমবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমে যাবে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক অপরাধও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে। এ জন্য প্রত্যেক অভিভাবককে আরো সচেতন হওয়ার পরামর্শ দেন বিএমপি’র দক্ষ এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্ম যেন আইন মান্যকারী হিসেবে গড়ে উঠে, আইনের প্রতি যেন শ্রদ্ধাশীল হয় তার জন্য এখন থেকেই কাজ করতে হবে। কোন ধরণের অপরাধ দানা বাঁধার পূর্বেই যেন তা চিহ্নিত করে সমাধান করা যায় সে লক্ষ্যেই কাজ করছে বিএমপি পুলিশ। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, বরগুনার নয়ন বন্ডের মতো যেন আর কোন বন্ড বাহিনী/কিশোর গ্যাং তৈরী হতে না পারে সেজন্য পুলিশ, জনগন, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। সমাজ ভাল থাকলে সবাই ভাল থাকবেন বলেন তিনি।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব