দেশে শিশু নির্যাতনের ক্রমবর্ধমান ঘটনা রোধে জাতীয় টাস্কফোর্স গঠন, দ্রুত বিচার নিশ্চিতকরণ এবং শিশু সুরক্ষাবিষয়ক শক্তিশালী কাঠামো তৈরির দাবি উঠেছে। শনিবার রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশে শিশু নির্যাতন বৃদ্ধি ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ দাবি জানান বক্তারা।
বৈঠকে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার বলেন, “শিশু সুরক্ষা কেবল সামাজিক দায়িত্ব নয়, এটি রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব।” তিনি শিশু সুরক্ষায় একটি জাতীয় টাস্কফোর্স ও ‘ন্যাশনাল কমিশন ফর চাইল্ড প্রোটেকশন’ গঠনের প্রস্তাব দেন। পাশাপাশি শিশু নির্যাতনকারীদের কেন্দ্রীয় তথ্যভাণ্ডার বা ‘চাইল্ড অফেন্ডার রেজিস্ট্রি’ তৈরির আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আলোচিত কিছু ঘটনার বিচার হলেও অসংখ্য শিশু এখনো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত।
সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন বলেন, শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয়; কার্যকর বাস্তবায়ন এবং পরিবার-সমাজ-রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। তিনি প্রযুক্তির অপব্যবহার, অনলাইন অপরাধ, মাদক ও জুয়ার বিস্তারকে শিশুদের জন্য নতুন ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করেন।
সভায় শিশু নির্যাতনের শিকার রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বলেন, তিনি শুধু মেয়ের হত্যার বিচার চান না, ভবিষ্যতে আর কোনো পরিবার যেন এমন ট্র্যাজেডির মুখোমুখি না হয় সেই নিশ্চয়তাও চান।
গোলটেবিল থেকে ১০ দফা সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক শিশু সুরক্ষা নীতিমালা, জেলা-উপজেলায় চাইল্ড প্রোটেকশন ডেস্ক, দ্রুত তদন্ত ও বিচার, জাতীয় শিশু হেল্পলাইন ১০৯৮-এর সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত জাতীয় ডাটাবেস, শিশু-সংবেদনশীল গণমাধ্যম নীতিমালা, স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত সচেতনতামূলক কার্যক্রম।
বৈঠকে রাজনীতিবিদ, চিকিৎসক, গণমাধ্যমকর্মী, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশ নিয়ে শিশুদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।