
প্রকাশ: ৫ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩:২১

ঢাকায় সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে একটি শান্তি ও সম্প্রীতি সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন বিভিন্ন ধর্মীয় নেতারা। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে তারা এ প্রস্তাব দেন।
বৈঠক শেষে ধর্মীয় নেতারা জানান, প্রধান উপদেষ্টা মনোযোগ দিয়ে সবার মতামত শুনেছেন এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে তাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ বুদ্ধিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দ প্রিয় বলেন, “বাংলাদেশের ঐতিহ্য হল সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি। আমরা চাই এই সম্প্রীতি অটুট থাকুক। প্রধান উপদেষ্টা যেন এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেন।”
রমনা হরিচাঁদ মন্দিরের সহ-সম্পাদক অবিনাশ মিত্র বলেন, “আমাদের মধ্যে বিভেদ নেই, কিন্তু কিছু স্বার্থান্বেষী মহল বিভেদ তৈরি করার চেষ্টা করছে। বিদেশি প্রোপাগান্ডার মাধ্যমে আমাদের ঐক্য বিনষ্ট করতে চায় তারা। এ ধরনের অপতৎপরতা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।”

সেন্ট ম্যারিজ ক্যাথেড্রালের প্রধান পুরোহিত অলভার্ট রোজারিও বলেন, “দেশ এখন একটি স্পর্শকাতর সময় পার করছে। এই সময়ে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসকন ঘটনার ফলে যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, তা নিরসনে আমরা একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানিয়েছি।”
গারো সম্প্রদায়ের পুরোহিত জনসন মুরি কামাল বলেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি এবং অপপ্রচার মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখতে সরকার এবং সমাজের সব স্তরের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”
আস-সুন্নাহ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শায়খ আহমাদুল্লাহ বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে আলোচনা থেকে বোঝা গেছে, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার ও ধর্মীয় নেতারা একযোগে কাজ করছেন। এ ঐক্য যেন ভবিষ্যতেও বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে আমরা একসঙ্গে কাজ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”
ধর্মীয় নেতারা আরও জানান, সম্প্রতি কিছু ঘটনার প্রেক্ষিতে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের মধ্যে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এই ধরনের বৈঠক জরুরি। ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।