
ছোটবেলায় খুব বেশি দুরন্ত থাকায় এদিক ওদিক ছোটাছুটি করে খুব তিনি। সে চোখে চোখে রাখতেই বাবা মা পায়ে নূপুর বেঁধে দেন। সেই থেকে তার নাম নূপুর। তার ছোট একটা ভাই আছে ওর চাইতে পাঁচ বছর পর জন্ম হয়। ওর নাম সকাল। দুই ভাই বোন সারা বাড়ী মাথায় করে রাখে। সে গুণবতী, বেশ সুন্দরী মেয়ে, সহজ সরল, জটিলতামুক্ত মেয়ে নূপুর। তার নিজের চাঞ্চল্য নিয়েই বেড়ে উঠছিল। আমি কখনো মেয়েটাকে আগে দেখিনি এই তো সেদিনের কথা-
- আচ্ছা মামা দিচ্ছি, একটু ধৈর্য ধরুন?
- আচ্ছা ঠিক আছে।
- এই সকাল চেয়ারে বসো।
আমি ওর দিকে একই ভাবে তাকিয়েই রইলাম, মনে হচ্ছিলো ও আমার কতো চেনা একজন মানুষ আমার আপনজন। ও আমার দিকে তাকিয়ে হাসতেছিলো। বেশ নির্বোধ এর মতো লাগছিলো নিজেকে। ওরা চটপটি খাওয়া শেষে ওর ভাই এর হাত ধরে চলে গেল। আর বারবার আমার দিকে তাকাতে লাগলো। আমি নির্বোধের মতো না থেকে চটপটি ওয়ালাকে টাকাটা দিয়ে ওর পিছু পিছু যাইতেছি।
- জী আমার নাম নূপুর।
- আমি আপনার সাথে কি একটু কথা বলতে পারি?
- আপনি তো কথা বলতেছেনি।
নিজেকে একদম বোকা লাগতেছিলো তখন।
- আমি ঠিক এটার কথা বলতেছিনা, তোমাকে কিছু কথা বলতে চাই?
- জী বলুন?
- তোমার ফোন নাম্বার কি পেতে পারি?
- না, আমি এখন চলে যাবো প্লিজ আর বিরক্ত করবেন না?
- চলে তো যাবাই, ঠিকানাটা দিয়ে যাও?
- জাহান্নামের চৌরাস্তায়।
- সেটা আবার কোথায়?
- কেমন আছেন?
- আপনি জেনে কি করবেন?
- কিছুনা, জানতে কি কোন কারণ লাগে?

- আলহামদুলিল্লাহ ভালো, আপনি।
- এতক্ষণ ভালো ছিলাম না আপনাকে দেখার পর থেকে ভালো।
- আমার কোন ফোন নেই, আমি ব্যবহার করিনা।
- এই যুগে ফোন ছাড়া, হাহাহা।
- কেন ফোন ব্যবহার করাটা কি খুবই জরুরী?
- কেমন আছেন?
- আপু এখানে কিছুদিন যাবত একটা মেয়েকে দেখলাম? আর খুঁজে পাচ্ছিনা।
- আপু বলল, নাম কি তার?
- নূপুর, আপু মেয়েটাকে আমার ভালো লেগেছে।
- মানে নূপুর, রাজবাড়ীর নূপুর। ভাই তুই এটা কি করছিস।
- কেন আপু আমি কি করলাম।
- সাফিন ভাই আমার নূপুরের ক্যান্সার, ওর চিকিৎসার জন্যে চারদিন আগে ওকে ঢাকাতে নিয়ে গেছে।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব