প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:২৪

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনগত যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২–এ রোববার অনুষ্ঠিত শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ ও ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন জানানো হয়।
শুনানিতে ট্রাইব্যুনালে প্রদর্শন করা হয় ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজ। বেরোবি ক্যাম্পাসের মূল ফটকের ভিডিওচিত্র দেখিয়ে প্রসিকিউশন দাবি করে, ফুটেজে আসামিদের অবস্থান, ভূমিকা ও কার্যকলাপ স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে, যা মামলার দালিলিক প্রমাণ হিসেবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ভিডিওচিত্রের ধারাবাহিক বিশ্লেষণ উপস্থাপন করে বলেন, ফুটেজেই আসামিদের প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততা ও অপরাধের প্রকৃতি সন্দেহাতীতভাবে প্রতীয়মান হয়। তার যুক্তিতর্কে উঠে আসে ঘটনার সময় কে কোথায় ছিলেন এবং কীভাবে ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে তার একটি সুস্পষ্ট চিত্র।
যুক্তিতর্কের শেষ পর্বে প্রসিকিউশন ট্রাইব্যুনালের কাছে দাবি জানায়, মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় সব আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক, যাতে ন্যায়বিচারের দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পরপরই আসামিপক্ষের আইনি লড়াই শুরু হয়। আইনজীবী আমিনুল গণি টিটো মামলার অন্যতম আসামি বেরোবির তৎকালীন প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ তিনজনের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন।
শুনানির দিন গ্রেপ্তার থাকা ছয় আসামিকে কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। অন্যদিকে মামলার মোট ৩০ জন আসামির মধ্যে তৎকালীন উপাচার্য হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন এখনো পলাতক রয়েছেন, যাদের জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করেছে ট্রাইব্যুনাল।
মামলার নথি অনুযায়ী, তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল, চার্জ গঠন, সাক্ষ্যগ্রহণ ও যুক্তিতর্কের দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে মামলাটি এখন রায় ঘোষণার পূর্ববর্তী চূড়ান্ত ধাপে পৌঁছেছে, যা দেশের বিচার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।