প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৬:২

বিচার বিভাগে ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে বিচারপ্রার্থী মানুষের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ই-বেইল বন্ড চালুর ফলে জামিন মঞ্জুর হওয়ার পর আর কাউকে অকারণে কারাগারে দিন কিংবা সপ্তাহ কাটাতে হবে না।
বুধবার সকালে আইন মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে দেশের আটটি জেলায় একযোগে ‘ই-বেইল বন্ড’ ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, আগে জামিন পেলেও মুক্তির জন্য নানা ধাপ অতিক্রম করতে হতো। কাগজপত্রের জটিলতা ও প্রশাসনিক বিলম্বে বিচারপ্রার্থীদের অপ্রয়োজনীয় সময় ও অর্থ ব্যয় হতো। অনেক ক্ষেত্রে জামিনের আদেশের পরও কয়েক দিন বা সপ্তাহ পর্যন্ত কারাগারে থাকতে হয়েছে।
তিনি জানান, নতুন ডিজিটাল ব্যবস্থায় বিচারকের স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই বেইল বন্ড স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট জেলখানায় পৌঁছে যাবে। এর ফলে কারাগারে আটক ব্যক্তি কয়েক ঘণ্টা বা সর্বোচ্চ একদিনের মধ্যেই মুক্তি পেতে পারবেন।
ড. আসিফ নজরুল আরও বলেন, ই-বেইল বন্ড সিস্টেমে প্রতিটি ধাপের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। কে কখন কোন পর্যায়ে স্বাক্ষর করছেন, তা ডাটাবেজে রেকর্ড হবে। এতে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়বে এবং অনিয়মের সুযোগ কমবে।

এই ব্যবস্থার ফলে অভিযুক্ত ও তাদের পরিবারের যাতায়াত খরচ কমবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি সরকারকেও অপ্রয়োজনীয় কারা ব্যয় বহন করতে হবে না, যা সামগ্রিকভাবে রাষ্ট্রের অর্থ সাশ্রয়ে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আট জেলার বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা, আইনজীবী, কারা অধিদপ্তর ও পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন। ই-বেইল বন্ড কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের বিচার ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।