
প্রকাশ: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০:৫৫

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল উপজেলা সব সময় দেখা যায় নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ট্রাক্টর। এতে বাড়ছে দুর্ঘটনা, প্রকট হচ্ছে যানজট। সরাইলে দিন-রাত দাপিয়ে বেড়াচ্ছে কয়েক শ ট্রাক্টর। অধিকাংশ ট্রাক্টরচালকের লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নেই।
ফলে এসব ট্রাক্টরের বেপরোয়া চলাচল, উৎপাত নীরবে হজম করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ যানের দাপট সড়ক-মহাসড়কে অবৈধ যানবাহনের দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এদের বেশিরভাগই আইন-কানুন মানে না। কোনো নিষেধাজ্ঞায়ও তারা কর্ণপাত করে না। মহাসড়কে এসব যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ। চালকদের কোনো লাইসেন্সও নেই। এত কিছুর পরও তাদের থামানো যাচ্ছে না। এতে প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা বাড়ছে। সাধারণ মানুষও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
এমন অবস্থায় ভুক্তভোগী ও সচেতন মহল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলছেন, এসব অবৈধ যানবাহনের লাগাম টানতে হবে। না হলে দুর্ঘটনায় প্রাণহানিসহ ক্ষতির মাত্রা আরো বাড়বে।
সরাইলে দিনে দিনে মানুষের চাপ বাড়ছে। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে যানবাহন। যাত্রী ও মালামাল পরিবহনে অগণিত ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সঙ্গে ডিজেলচালিত তিন চাকার যানের পাশাপাশি উপজেলায় অবাধে চলাচল করছে অসংখ্য ট্রাক, ট্রাক্টর, নছিমন, ভটভটি। এ ছাড়া উপজেলা বাইরে থেকে আসা মাছ, সবজিসহ অন্য পরিবহনের গাড়ি, দূরপাল্লার কোচ শহরের যত্রতত্র পার্কিং করায় উপজেলা গুরুত্বপূর্ণ বিশ্বরোড় মোড়ে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন অভিযোগ থাকলে ও
তবে অর্থ গ্রহণের কথা অস্বীকার করেছে পুলিশ।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে তোলা ইট, বালুসহ নানা ধরনের নির্মাণসামগ্রী পরিবহনে উপজেলা কুট্রাপাড়া দৈনিক প্রায় শতাধিক ট্রাক্টর চলাচল করে। উপজেলার প্রাণকেন্দ্রে বিকট শব্দ করে দ্রুত গতিতে এসব গাড়ি চলে। এতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে কোনো না কোনো দুর্ঘটনা। জানা গেছে,গত কয়েকদিন আগে অবৈধ ট্রাক্টরের ধাক্কায় উপজেলা সদরের বড্ডাপাড়া গ্রামের মো. আব্দুর রাহিম নামে এক শিক্ষক নিহত হন। একটি অবৈধ ট্রাক্টর এসে পেছন থেকে শিক্ষক রহিমকে ধাক্কা দিলে তিনি নিহত হন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোটরসাইকেল ও ইজিবাইক চালক জানান, ট্রাক্টর ও ট্রোলির কারণে প্রতিনিয়ত সড়কে ও গ্রামীণ সড়কগুলোতে আমরা দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছি । তারা যখন রাস্তায় বের হয় তখন আমাদের খুব ভয়ে গাড়ি চালাতে হয়। কেননা পাশ্ব কাটিয়ে ওঠার জন্য যতটুকু রাস্তার আয়তন থাকার কথা সে অবস্থাতে নেই। তাই আমাদের বিব্রত অবস্থা পড়তে হয় ।
‘ট্রাক্টরের কারণে উপজেলা বিভিন্ন রাস্তায় ধুলাবালুর জন্য চলাচল মুশকিল হয়ে পড়েছে। তীব্র যানজট হচ্ছে। নির্মাণসামগ্রীসহ অন্য মালামাল পরিবহনে এসব ট্রাক্টরের প্রয়োজন আছে। তবে এগুলো দিনের বেলা চলাচল না করে রাতের বেলা চলাচল করলে কারও কোনো সমস্যা হয় না।’ তা ছাড়া, উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় রাতে ট্রাক্টর চলাচলের একাধিকবার সিদ্ধান্ত হলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি বলেও মন্তব্য করেন নাম না প্রকাশের শর্তে এক সদস্য।খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ আকুল চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, অবৈধ ট্রাক্টরসহ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে চলতি মাসে ৭৯ টি মামলা হয়েছে।অবৈধ যানবাহ নের বিরুদ্ধে হাইওয়ে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সরাইল থানা অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মোহাম্মদ এমরানুল ইসলাম বলেন, চাষাবাদে যান্ত্রিকীকরণের ক্ষেত্রে ট্রাক্টরের ব্যবহার হতো। তবে সাম্প্রতিক কালে এ যন্ত্রটি শুধু চাষাবাদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই।ট্রাক্টরের পিছনে একটি ড্রাম লাগিয়ে রাস্তায় চলাচল করে।অবৈধ ট্রাক্টরের চালকদের কোনো লাইসেন্সও নেই। উপজেলা প্রশাসন এ অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযানে পুলিশ সহযোগিতা করছে।
সরাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মেজবা উল আলম ভূইঁয়া বলেন, অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আজও দুইটি ট্রাক্টরকে আটক করা হয়েছে।তাছাড়া অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।