প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৬, ১৩:০

ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ। শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে এবং দলের আরও দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে আটক করা হয়।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে আয়োজিতব্য বিক্ষোভে অংশ নিতে দিল্লিতে পৌঁছেছিলেন তারা। এ কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
দিল্লিতে যাওয়ার আগে অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছিলেন, বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে গ্রেপ্তার হতে হলেও তিনি প্রস্তুত। তার বক্তব্যে নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার দৃঢ় অবস্থান প্রকাশ পায়।
দীপকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, নিরাপত্তাজনিত বিধিনিষেধ আরোপ করে সাধারণ মানুষকে বিক্ষোভে যোগ দেওয়া থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করছে সরকার।
রাজধানীতে বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তার অভিযোগ, সরকারের পদক্ষেপের বিরুদ্ধে সরব তরুণ ও সাধারণ নাগরিকদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

এদিকে প্রস্তাবিত বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে দিল্লিজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রের বরাতে জানা গেছে, দিল্লি পুলিশ আইনের ৬৫ নম্বর ধারায় অন্তত ৬০০ জনকে আটক করা হয়েছে। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে।

শনিবার সকাল ৬টা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কঠোর ট্রাফিক বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ব্যারিকেড বসিয়ে যানবাহন পরীক্ষা ও মানুষের চলাচল পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ। বেশ কয়েকটি সড়কে যান চলাচলের পথও পরিবর্তন করা হয়েছে।
বিক্ষোভ ঘিরে মেট্রো পরিষেবায় বিধিনিষেধ, একাধিক ট্রেন বাতিল এবং রাজধানীর কিছু এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তও কার্যকর রয়েছে। এসব পদক্ষেপের কারণে দিল্লির স্বাভাবিক যাতায়াতে প্রভাব পড়েছে।
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সিজেপির এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিক্ষোভের অনুমতি না থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে দিল্লি পুলিশ।