গাজায় ত্রাণবাহী জাহাজ নিয়ে যাত্রা করা গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলার অধিকাংশ নৌযানকে আটক করেছে ইসরাইল। আয়োজকদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, অন্তত ৩৯টি জাহাজ আটক করা হয়েছে এবং এতে থাকা অন্তত ৩১৭ জন কর্মীকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক হওয়া কর্মীদের সবাই নিরাপদে আছেন এবং প্রাথমিকভাবে তাদের আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখান থেকে প্রক্রিয়া শেষে ইউরোপে ফেরত পাঠানো হবে। ইসরাইলি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি—গাজা উপত্যকার অবরোধ ভাঙার যে চেষ্টা এই উদ্যোগের মাধ্যমে হচ্ছিল, তা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন।
গ্লোবাল সুমুদ ফ্লোটিলা মূলত বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকারকর্মীদের একটি যৌথ উদ্যোগ। আয়োজকদের তথ্যমতে, স্পেন, ইতালি, ব্রাজিল, তুরস্ক, গ্রিস, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, সুইডেন, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ অন্তত ৩৭টি দেশের নাগরিক এই অভিযানে যুক্ত ছিলেন। তাদের মধ্যে সুইডেনের জলবায়ু ও অধিকারকর্মী গ্রেটা থুনবার্গের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিত্বরাও রয়েছেন।
ইসরাইলি বাহিনী বুধবার রাতে প্রথমবারের মতো ভূমধ্যসাগরে ফ্লোটিলার জাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে অভিযান চালায়। তখন তারা গাজা উপত্যকা থেকে প্রায় ১২৯ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল। এরপর বৃহস্পতিবার দুপুর নাগাদ আরও কয়েকটি জাহাজ আটক করা হয়। আটক নৌযানগুলোকে আশদোদ বন্দরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, যা গাজা থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে।
ইসরাইল স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, এখনো যেসব জাহাজ অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করবে, তাদেরও আটক করা হবে। বর্তমানে শুধু একটি জাহাজ ফ্লোটিলার অংশ হিসেবে যাত্রা অব্যাহত রেখেছে।
আয়োজকরা অভিযোগ করছেন, ইসরাইল মানবিক ত্রাণ বহনকারী জাহাজগুলোকে আটকে আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে। তাদের মতে, এসব জাহাজে কোনো ধরনের অস্ত্র বা সামরিক সরঞ্জাম ছিল না। কেবলমাত্র খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী ছিল, যা গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জন্য পাঠানো হচ্ছিল।