
প্রকাশ: ৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ১৭:৪০

সিরিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক বাশার আল-আসাদ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। বিদ্রোহী বাহিনী প্রায় কোনো বাধা ছাড়াই রাজধানী দামেস্কে প্রবেশ করার পর রোববার সকালে একটি বিমানে অজ্ঞাত গন্তব্যে রওনা দেন তিনি।
রাজধানীর রাস্তায় হাজারো মানুষ জড়ো হয়ে স্বাধীনতার স্লোগান দিচ্ছে। আনন্দ-উল্লাসে মেতে ওঠা জনতা বলছে, দামেস্কের পতন আসাদের ২৪ বছরের শাসনের অবসান হতে পারে। এদিকে, দামেস্কের বিমানবন্দরে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেছে।
বিদ্রোহীদের সাফল্য সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সরকারবিরোধী লড়াইয়ে অংশ নেওয়া বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর জন্য এটি এক বড় অর্জন।
গত ১০ দিনের মধ্যে সিরিয়ার সেনাবাহিনী কার্যত ভেঙে পড়েছে। সেনাবাহিনীর অধিকাংশ সদস্য বাধ্য হয়ে কাজ করছিল, তাদের মধ্যে লড়াই চালানোর মনোবল ছিল না।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, দামেস্কের উমাইয়া স্কোয়ারে জনতা পরিত্যক্ত সামরিক ট্যাংকের ওপর দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার গান গাইছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে গুলির শব্দ পাওয়া গেলেও গোলাগুলির উৎস স্পষ্ট নয়।
আলজাজিরা জানিয়েছে, দামেস্কের পথে বিদ্রোহীরা এগিয়ে যাচ্ছে। তবে আসাদের শাসন পুরোপুরি শেষ হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করা যায়নি।

সিরিয়ার ক্ষমতায় আসাদ ছিলেন ২০০০ সাল থেকে। তার আগে তার বাবা হাফেজ আল-আসাদ প্রায় তিন দশক দেশটি শাসন করেন।
২০১১ সালে আসাদের বিরুদ্ধে গণবিক্ষোভ শুরু হলে তার সরকার তা দমনে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। সশস্ত্র বিদ্রোহে পরিণত হওয়া সেই আন্দোলনই সিরিয়াকে গৃহযুদ্ধে নিয়ে যায়।
২০১৫ সালে রাশিয়া আসাদের পক্ষে যুদ্ধে অংশ নেয়, যার ফলে বিদ্রোহীরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যস্ততার কারণে রাশিয়া সিরিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেনি।
এ সুযোগে বিদ্রোহীরা আবার সংগঠিত হয়ে আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু করে। এই প্রেক্ষাপটে আসাদ দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিদ্রোহীদের এই অগ্রযাত্রা শুধু সিরিয়ার জন্য নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
ইনিউজ৭১.