
প্রকাশ: ২০ নভেম্বর ২০১৯, ১৬:৪৭

আপনি কি ঘুম থেকে উঠেই ফেসবুক চেক করেন? রাতে ঘুমানোর আগে বেশ কিছুক্ষণ ফেসবুক ব্যবহার করেন? ফেসবুক কি আপনার অবসরের একমাত্র চয়েস? হাতে একটু সময় পেলেই আপনি কি ফেসবুকে ঢুকে পড়েন? ফেসবুক ছাড়া একটি দিন আপনি কি কল্পনাও করতে পারেন না? যদি সবকটি প্রশ্নের উত্তর হ্যাঁ হয় তাহলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় আপনি একজন ফেসবুক আসক্ত।
আমরা কোন একটি কাজ যদি কিছুদিন নিয়মিত করি তাহলে সেটি আমাদের অভ্যাস হয়ে উঠে। ঠিক তেমনিভাবে ফেসবুক ব্যবহারও আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। পেশাগত প্রয়োজন ছাড়া ফেসবুক বা স্যোশাল মিডিয়ায় আমরা দিনের একটা বড় সময় অযথা নষ্ট করি। ফলে পড়াশুনা ও কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টির পাশাপাশি মন ও মস্তিস্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
একাকীত্ব বাড়ায়
মনোযোগ নষ্ট করে
হিংসাত্মক মনোভাবাপন্ন
নিরাপত্তাহীনতা

তারপর ধরুন আপনি অ্যামাজন, ফ্লিপকার্ড বা গুগলে কোন একটি বিশেষ জিনিস যেমন ধরুণ কোন স্মার্ট ফোনের ব্যাপারে সার্চ করলেন। অদ্ভুত ব্যাপার লক্ষ্য করবেন তারপর থেকে সেই ফোনটির অ্যাডস্ বারবার আপনার ফেসবুকের নিউজফিডে পাচ্ছেন। এর কারণ হলো ফেসবুক কর্তৃপক্ষ আপনার সার্চিং হিষ্টিও স্টোর করে রাখে। এজন্য আপনি যা-ই সার্চ করেন তার জন্য আপনার ফেসবুক নিউজফিডে সে সম্পর্কিত পণ্যের অ্যাডস্ চলে আসে।
ফেসবুক তার ব্যবহারকারীদের আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু হাতিয়ে নেয়। সেটা দেখার জন্য আপনাকে ডেক্সটপে যেতে হবে। প্রথমে আপনি আপনার আইডি দিয়ে ফেসবুকে লগইন করে সেটিংসে ঢুকবেন, তারপর ডাউনলোডে কপি অব ইউর ফেসবুক ডাটাতে ক্লিক করবেন। তারপরে আপনি দেখতে পাবেন ফেসবুকের কাছে আপনার কী কী ইনফরমেশন আছে। আপনার ফেসবুক পোস্টস, লাইকস্, কমেন্টস, ফটোস্, ভিডিওস্, মেসেজেস সবই আছে। এর বাইরেও এমন কিছু আছে যা দেখলে আপনি অবাক হবেন। আপনার সার্চি হিস্ট্রি, লোকেশন হিস্টি, আপনি কোন নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন এমনকি আপনার কন্টাক্টসে কে কে আছে। আপনি কাকে কখন কল করেছেন সেই কল লগস্। কাকে কখন মেসেজ করেছেন সেই মেসেজ হিস্টিও আছে ফেসবুকের কাছে।
মস্তিস্কের কর্মকাঠামো পরিবর্তন
অনলাইন জগৎ, এখানে আপনিই প্রোডাক্ট। আপনি ভাবছেন আপনার ব্যাক্তিগত তথ্য নিয়ে ফেসবুক কী করবে। কিন্তু আপনার এ তথ্য পণ্য বিক্রেতাদের কাছে মহামূল্যবান। তাছাড়া একবার ভেবে দেখুন আপনার অজান্তেই আপনার সমস্ত ডাটা চলে যাচ্ছে ফেসবুকের ডাটাবেজে। এরপর যদি আপনার ফেসবুক কখনও হ্যাক হয়ে যায় তাহলে শুধু আপনার ফেসবুক আইডিই চুরি হলো না, চুরি হয়ে গেল আপনার সমস্ত গোপনীয়তা। সুতরাং পেশাগত ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ফেসবুক ব্যবহারে সচেতন হোন।
ইনিউজ ৭১/এম.আর