প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২১, ২২:৪৭
সচিব কমিটিতে পাস হওয়া ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গেজেটেড অফিসার ও নন-গেজেটেড কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০২১’ এ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতির বিধান যুক্ত না করায় তা সংশোধনের দাবিতে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দে স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি। পদোন্নতি চালু করতে মহাপরিচালক, সচিব ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেন শিক্ষকবৃন্দ।বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী গোয়ালন্দ উপজেলার শিক্ষা অফিসার মো. কবির হোসেনের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি দেন।
এসময় উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মো. আজিজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এতে চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদেরকে স্থায়ী পদোন্নতি দেওয়ারও দাবি জানান তারা। স্মারকলিপি প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির গোয়ালন্দ উপজেলা শাখার সভাপতি সুশীল কুমার রায়, সাধারন সম্পাদক মোমিনুল ইসলাম, শিক্ষক নজরুল ইসলাম, বাবর আলী, সাহজাহান সিরাজ, রোজিনা খাতুন, তৃপ্তি বিশ্বাস, আসমা খাতুন, বিলকিস বেগম, শাহনাজ পারভিন প্রমুখ।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গেজেটেড অফিসার ও নন-গেজেটেড কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-১৯৮৫ অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক থেকে উপরের পদে পদোন্নতি হতো। কিন্তু পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর এক সংশোধনী গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি বন্ধ করা হয়। যা প্রধান শিক্ষকদের কাছে একটি ‘কালো আইন’ নামে পরিচিত। ফলে প্রধান শিক্ষক পদটি দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে ‘ব্লক পোস্ট’ হিসেবে রয়েছে। সংশোধিত ‘প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের গেজেটেড অফিসার ও নন-গেজেটেড কর্মচারী নিয়োগ বিধিমালা-২০২১’ এ দুইটি পদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকদেরকে শুধু বিভাগীয় প্রার্থী হওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। এসব পদে আবেদনের বয়সসীমা রাখা হয়েছে ৪৫ বছর। ফলে খুবই অল্পসংখ্যক প্রধান শিক্ষক এসব পদে আবেদন করার সুযোগ পাবেন। ২০১৪ সালের ৯ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড পদমর্যাদা প্রদান করলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। এতে ১০ম গ্রেডসহ দ্বিতীয় শ্রেণীর গেজেটেড পদমর্যাদার সুফল ভোগ করতে পারছেন না প্রধান শিক্ষকরা। আবার দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত হওয়ায় প্রধান শিক্ষকরা তাদের বকেয়া টাইমস্কেলও পাচ্ছেন না বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।