দীর্ঘ সময়ের ওঠানামার পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আবারও ৩৬ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২৪ জুন) দেশের মোট বা গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলারে।
এর মাধ্যমে প্রায় ৫৬ মাস বা সাড়ে চার বছর পর রিজার্ভ আবারও ৩৬ বিলিয়ন ডলারের ঘরে ফিরল। এর আগে ২০২২ সালের অক্টোবরে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৬ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে যায়। এরপর ধারাবাহিকভাবে রিজার্ভ কমতে থাকে এবং ২০২৪ সালের আগস্টে তা ২৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছে যায়।
একই বছরের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ওই সময় অর্থনীতির বিভিন্ন সূচকের পাশাপাশি রিজার্ভও চাপে পড়ে। সেপ্টেম্বর মাসে রিজার্ভ আরও কমে ২৪ বিলিয়ন ডলারের ঘরে নেমে আসে।
তবে এরপর থেকে পরিস্থিতির উন্নতি শুরু হয়। রিজার্ভ ধরে রাখতে অন্তর্বর্তী সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে। বাজার থেকে ডলার ক্রয়, বৈদেশিক দায় পরিশোধে কৌশলগত ব্যবস্থা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনায় কঠোর নজরদারি কার্যকর করা হয়।
একই সঙ্গে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে প্রবাসীদের পাঠানো অর্থ দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশনা দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর ইতিবাচক প্রভাবে দেশে প্রবাসী আয় প্রবাহ বৃদ্ধি পায় এবং রিজার্ভ পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বের শেষ মাস ফেব্রুয়ারিতে রিজার্ভ ৩৫ বিলিয়ন ডলারের ঘরে পৌঁছে যায়। পরে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও রিজার্ভ বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে। সর্বশেষ বুধবার তা ৩৬ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে নতুন স্বস্তির বার্তা দিয়েছে।