চীনের উহান থেকে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া নভেল করোনাভাইরাসে আক্রান্ত স্পেনও। গত কয়েকদিনে স্পেনে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিদিন ২৫ শতাংশ হারে বাড়লেও বৃহস্পতিবার তা বেড়ে ৩৫ শতাংশ হয়েছে। ইতোমধ্যে করোনা দেশটির ৮৩৩ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। নতুন করে অনেকে আক্রান্ত হওয়ায় সংক্রামক এই ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দেশটির সরকারকে।স্পেনের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের দেয়া তথ্য অনুযায়ী দেশটিতে এখন অবধি কোভিড-১৯ এ মোট আক্রান্তের মাঝারি ঝুঁকিতে থাকলেও আক্রান্তদের ৬ শতাংশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছেন।
এদিকে করোনায় দেশটির অনেত শীর্ষ রাজনীতিবিদও আক্রান্ত হয়েছেন। দেশটির সরকার প্রধান প্রেসিডেন্ট পেদ্রো সানচেজের স্ত্রী বেগুনিয়া গোমেজও করোনায় আক্রান্ত। এছাড়া সাম্যবাদ মন্ত্রী আইরিন মন্টেরো, ডানপন্থী দল বক্সের সেক্রেটারি জেনারেল জাভিয়ের ওর্তেগা স্মিথ, স্পেনীয় কাতালোনিয়ার অঞ্চলের স্বাধীনতাবাদী নেতা কিম তোর্রা এবং কাতালান সরকারের উপ-প্রধান পেরে অ্যারাগোনেসও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।এরইমধ্যে স্পেন সরকার কোভিড-১৯ এর চিকিৎসার সরঞ্জামাদির ঘাটতি দূর করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। অন্যদিকে স্পেনের রাজতান্ত্রিক ইউনিয়ন গত বৃহস্পতিবার এই মহামারীতে নিহতদের শ্রদ্ধা জানাতে প্রতি রবিবার বা স্থায়ীভাবে সবার ব্যালকনিতে স্প্যানিশ পতাকায় কালো ক্রেপযুক্ত লেস স্থাপনের কথা জানিয়েছে।
স্পেনের রাজতান্ত্রিক ইউনিয়নের সভাপতি জোয়াকোয়ান করমিনাস বলেন, ‘এই উদ্যোগে আমরা আশাবাদী হয়ে স্পেনীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে সচেতনতা গড়তে চাই, যা এখন আগের চেয়েও বেশি দরকার।’স্পেনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮ হাজার ৭৭ জনে। মারা গেছেন ৮৩৩ জন এবং সুস্থ হয়েছেন এক হাজার ১০৭ জন। এর মধ্যে বেশি সংক্রমিত শহর মাদ্রিদে আক্রান্ত হয়েছেন ছয় হাজার ৭৭৭ জন। সেখানে মারা গেছেন ৪৯৮ জন।কাতালুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তিন হাজার ২৭০ জন। মারা গেছেন ৮২ জন। পাইস ভাস্কোতে এক হাজার ১৯০ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৫৩ জন। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী স্পেনে ১৬ জন বাংলাদেশি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন।