
প্রকাশ: ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯, ৪:৫৯

পতাকা বিক্রি করা আমার
, বিষয়টা আমার কাছে অনেক সম্মান ও আনন্দেরও। কথাগুলো বলছিলেন, ঝালকাঠি জেলার আলীপুর গ্রামের লাল সবুজের ফেরিওয়ালা (পতাকা বিক্রেতা) মো. সেলিম মিয়া(৫৪)। ১৬ ই ডিসেম্বর,২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ ও পহেলা বৈশাখ সহ বড় বড় সামাজিক আচার অনুষ্ঠানে বছরের ছয় মাসই পতাকা বিক্রিতে সংসার চলে সেলিমের। সেলিম মিয়া পতাকা বিক্রি করেন ঢাকায়। তবে ১৬ ই ডিসেম্বর,২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ আসলেই তিনি পতাকা নিয়ে চলে আসেন পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায়। তাই বরাবরের ন্যায় এবারও ১৬ই ডিসেম্বরে তিনি বিভিন্ন সাইজের পতাকা, র্যাবন ফিতা,রাবার ফিতা নিয়ে বিক্রির জন্য এসেছেন এ উপজেলায়। বেশ কয়েকদিন ধরে মাথায় লাল সবুজের পতাকা বেধে উপজেলার পথে প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে এক দামে পতাকা,রাবার ফিতা বিক্রি করছেন তিনি।
রোববার সন্ধ্যার পরে নেছারাবাদ উপজেলার স্বরূপকাঠি পৌরসভার সামনে অবস্থিত শহীদ স্মৃতি স্তম্বের পাশে বসে কথা হয় সেলিমের সাথে। তিনি বলেন, বিশ বছর ধরে বছরে ছয় মাস দেশের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে পতাকা বিক্রি করেন তিনি। তার কাছে রয়েছে দেড় ফুট বাই আড়াই ফুট, পাচ ফুট বাই তিন ফুট ও সাড়ে তিন ফুট বাই আড়াই ফুট সাইজের জাতীয় পতাকা। এছাড়াও রয়েছে র্যাবন ফিতা ও রাবার ফিতা। পতাকাসহ এসব জিনিস বিক্রি করে তার রোজকারও মোটামুটি ভালই হয়। তিনি আশাবাদি ১৬ই ডিসেম্বর সোমবার তার অনেক বেচা বিক্রি হবে। সেজন্য এবছর তিনি সাথে করে তার ভাইপো বাপ্পি(২৮) কে সাথে নিয়ে এসেছেন পতাকা বিক্রির জন্য।

এভাবে কেবল সেলিম মিয়াই নয়; সেলিমের মত এ উপজেলার পথে প্রান্তরে মৌসুমভিত্তিক লাল সবুজের ফেরিওয়ালাদের পদচারনায় রাস্তাঘাট মুখরিত হয়ে উঠছে। তাদের বেচা বিক্রিও বেশ ভালই দেখাচ্ছে। তরুন সহ বিভিন্ন বয়সের ক্রেতারা এসে পতাকা, রাবার ফিতা কিনছেন। কেউবা আবার ধর দাম জিজ্ঞেস করে তাদের সাথে ছবিও তুলছেন।

দেশে নানান পেশা থাকলেও পতাকা বিক্রির চিন্তা মাথায় আসলো কিভাবে জানতে চাইলে পতাকা বিক্রেতা বৃদ্ধ সেলিম মিয়া বলেন, তিনি ছোট কালে রাস্তা ঘাটে অনেককে পতাকা বিক্রি করতে দেখেছেন। দেখে খুব ভালই লাগত। তাই তিনি পতাকা প্রেমে পড়ে আজ রাস্তা ঘাটে লাল সবুজের ফেরিওয়ালা হয়েছেন। সেলিম মিয়ার তিন মেয়ে এক ছেলে। মেয়েদের প্রত্যেককে মাধ্যমিক শিক্ষা পর্যন্ত পড়িয়ে বিয়ে দিয়েছেন। তার ছেলে ঢাকার কেরানিগঞ্জ শহরের প্রি পাইলট স্কুল থেকে এ বছর এস,এস,সি দিবেন। ঘরে আছেন স্ত্রী। পতাকা বিক্রিতে তাদের সংসার ভালই চলছে।
ইনিউজ ৭১/টি.টি. রাকিব