
প্রকাশ: ২৪ জুন ২০২৬, ১৯:২৩

২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়াতে মুদি দোকানসহ আরও ১৬টি ব্যবসা খাতকে সুনির্দিষ্ট ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জাতীয় সংসদে এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন।
বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় এবং প্রথম বাজেট অধিবেশনের ১৪তম কার্যদিবসে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ তথ্য উপস্থাপন করা হয়। সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম।
মহিলা আসন-৩৫ এর সংসদ সদস্য সেলিনা সুলতানা লিখিত প্রশ্নের মাধ্যমে জানতে চান, গত অর্থবছরে ভ্যাট থেকে সরকারের মোট রাজস্ব আয় কত ছিল এবং নতুন কোনো খাতকে ভ্যাটের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে কি না।
জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাবদ সরকারের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা। দেশের সামগ্রিক রাজস্ব কাঠামোতে ভ্যাটের অবদান আরও বাড়াতে নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে বিভিন্ন খুচরা ও সেবা খাতকে সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এর মধ্যে রয়েছে মুদি দোকান, তৈরি পোশাক ও কাপড় বিক্রেতা, কনফেকশনারি, কসমেটিকসের দোকান এবং প্লাস্টিক ও সিরামিক গৃহস্থালি পণ্যের ব্যবসা।

এছাড়া জুতার দোকান, হার্ডওয়্যার পণ্যের বিক্রেতা, ডেকোরেটরস, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিকস পণ্যের বিক্রেতারাও নতুন ব্যবস্থার আওতায় আসতে পারেন। এসি, ফ্রিজ, ওভেনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিকস পণ্যের ব্যবসাও এতে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
অর্থমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পেইন্ট, স্যানিটারি ও ফিটিংস, টাইলস, ঢেউটিন, রড ও সিমেন্ট ব্যবসা, ফার্নিচার বিক্রেতা, বিউটি পার্লার, মিষ্টান্ন ভান্ডার এবং রেস্টুরেন্ট খাতও ভ্যাটের সুনির্দিষ্ট কর ব্যবস্থার আওতায় আনার প্রস্তাব রয়েছে।
রাজস্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন খাতগুলোকে কর ব্যবস্থার মধ্যে আনা গেলে সরকারের আয় বাড়বে এবং কর নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হবে। তবে একই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য প্রক্রিয়াটি সহজ ও বাস্তবসম্মত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।